নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইউথ’ (ওয়ামি)-এর একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফর করেছে। ২ জুন বাংলাদেশে আগত ৪৮ সদস্যের দলটি চট্টগ্রামে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং ৩ জুন সফর শেষে ফিরে যায়।
জানা গেছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও তিউনিশিয়া থেকে এসেছিলেন। সফরকালে তারা চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ওষুধ বিতরণ করেন এবং সীতাকুণ্ডে অবস্থিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
ওয়ামি একটি আন্তর্জাতিক যুব ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধনের আওতায় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গাজীপুরে তাদের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে। এছাড়া এতিম সহায়তা, যুব উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও জানা যায়।
তবে সংগঠনটির অতীত কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক দেখা গেছে। ভারতের কিছু গণমাধ্যমে অতীতে ওয়ামির বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক থাকার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্তবর্তী অবস্থান এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের এই অঞ্চলে গ্রেপ্তার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তথ্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি সংস্থার মানবিক কার্যক্রমকে স্বাগত জানানো হলেও অর্থায়নের উৎস, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় যোগাযোগের বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা প্রয়োজন।
এদিকে ওয়ামির সাম্প্রতিক চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ সফরের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীল অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা জরুরি।