দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা বন্ধ: সংকটে কৃষি খাত?

লেখক: সুমিত রায়,
প্রকাশ: ২ দিন আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই কারখানার উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
​কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া থমকে যায়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি কাঁচামাল সংকট—ঠিক কী কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
​রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া
​দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বিভিন্ন পক্ষ থেকে একে “পরাধীন সরকারের ব্যর্থতা” হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করছেন:
​দায়িত্বে অবহেলা: ক্ষমতায় আসার পর জনগুরুত্বপূর্ণ এই খাতের প্রতি সরকারের চরম উদাসীনতা প্রকাশ পেয়েছে।
​বৈদেশিক প্রভাব: সমালোচকদের অভিযোগ, দেশের স্বার্থ রক্ষা না করে বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করার নীতিই এই শিল্প ধ্বংসের কারণ।
​অর্থনৈতিক বিপর্যয়: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে সারের উৎপাদন বন্ধ হওয়া দেশকে আবারও সেই পুরনো “তলাবিহীন ঝুড়ি”র দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
​কৃষিতে প্রভাবের আশঙ্কা
​বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় ডিএপি সারের চাহিদা ব্যাপক। একমাত্র সরকারি কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সাধারণ কৃষকরা। আমদানি নির্ভরতা বাড়লে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
​এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।