দেশে গঠিত হচ্ছে আরো ১৫টি গুম কমিশন গরু থেকে রাজাকার পর্যন্ত তদন্তে ব্যস্ত ইউনুস সরকার

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার পর যখন দেশে কর্মসংস্থান, খাদ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন ইউনুস সরকার নেমেছে এক অভিনব প্রকল্পে “ন্যায়বিচারের খামার সংস্কার।”
এক এক করে গঠিত হচ্ছে “গুম কমিশন”—যেখানে তদন্ত হবে গরু থেকে রাজাকার পর্যন্ত।

সরকারি সূত্র জানায়, কমিশনগুলো গঠিত হচ্ছে “মানবিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ থেকে।”
অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে—“গরু থেকে রাজনীতি, এখন কমিশন থেকে প্রচারণা!”

গরুগুম ট্রাইব্যুনাল: ন্যায়বিচারের নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গঠিত হয়েছে গরুগুম ট্রাইব্যুনাল—একটি বিশেষ আদালত, যার কাজ গরু নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন।
সরকার বলছে, এটি “মানবতার নতুন অধ্যায়”;
বিরোধীরা বলছে, “মানুষের বিচার বন্ধ, শুরু হয়েছে গরুর বিচার!”

প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী, যিনি একসময় দুগ্ধ বোর্ডে উপদেষ্টা ছিলেন।
তার সঙ্গে রয়েছেন তিন বিশেষজ্ঞ—একজন পশুচিকিৎসক, একজন সাংবাদিক (বই: গরু ও গণতন্ত্র), এবং এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন,

আমি নিজ চোখে দেখেছি, গরুরা রাতের আঁধারে সীমান্ত পার হচ্ছিল।”

প্রথম দিনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে—
“বিএনপি–জামাত মিলে গরুগুলোকে উস্কানি দিয়েছে; তাদের ‘হাম্বা–হাম্বা’ ছিল দেশবিরোধী স্লোগান!”

আসামিপক্ষ পাল্টা বলে—“গরু হাজির নেই, তাহলে বিচার কিসের?”
বিচারক রায় দেন,

“নিখোঁজ গরুগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে একটি প্লাস্টিকের গরু আদালতে হাজির করা হয়েছে।”

 

হাসিতে মুখর আদালতকক্ষ।
রায়ে ঘোষণা—

বিএনপি–জামাত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গরুগুলোর মনোবল ভেঙে দিয়েছে;
প্রতি ইউনিয়নে তিনটি গরুর সমমূল্য জরিমানা আদায় করা হবে।”

পরদিন পত্রিকার শিরোনাম—
“গরুগুলোর জন্য ন্যায় প্রতিষ্ঠিত!”

-গুম কমিশনের বন্যা, প্রশাসনের নতুন কৃষিপ্রকল্প

গরুগুম ট্রাইব্যুনালের ‘সাফল্যে’ অনুপ্রাণিত হয়ে সরকার একে একে গঠন করছে নতুন নতুন কমিশন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ঘোষিত কমিশনগুলো হলো—

জাতীয় গরুগুম কমিশন: নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

ভেড়াগুম কমিশন: নেতৃত্বে ডা. জাহেদ, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাক্তন কর্মকর্তা।

মাছগুম কমিশন: নেতৃত্বে ফুয়াদ, মৎস্য রপ্তানি বোর্ডের সাবেক উপদেষ্টা।

হাঁস–মুরগি গুম কমিশন: নেতৃত্বে কর্নেল (অব.) হাসিনুর, পোলট্রি নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক।

ছাগল নিখোঁজ তদন্ত ইউনিট: গঠনাধীন, প্রস্তাবনায় ‘মেষশাবক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটি’।

১৯৭১ সালের রাজাকার গুম কমিশন: নেতৃত্বে ব্রিগেডিয়ার (অব.) আজমি—“ইতিহাসের অসম্পূর্ণ অধ্যায় পূরণের লক্ষ্যে।”

এ ছাড়া সরকারের নথিতে প্রস্তাবিত রয়েছে আরও ১৫টি নতুন কমিশন—
যার মধ্যে ধান গুম, ব্যাঙ গুম, পেঁয়াজ গুম, ছাতা গুম, এমনকি লালফিতার গুম কমিশন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন
“সরকার এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ব্যঙ্গই পরিণত হয়েছে নীতিতে।”

এক অর্থনীতিবিদের ভাষায়,

দেশে হয়তো আর গরু নেই, কিন্তু গরু কমিশন আছে—
এটাই প্রশাসনিক সক্ষমতার নতুন প্রমাণ।”

আর এক সাংবাদিকের মন্তব্য—

“মানুষের বিচার থেমে আছে, এখন প্রাণীদের পালা চলছে।”

শরীয়তপুরের কৃষক রমিজ আলী প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসে থাকেন খালি গোয়ালঘরের পাশে।
চোখে জল নিয়ে বলেন—
“কমিশন, রায়, বিচার—সবই শুনলাম।
কিন্তু আমার গরুটা তো আর ফিরল না।
তবে মাঝে মাঝে মনে হয়, দূর থেকে কেউ ডাকছে—
‘হাম্বা… হাম্বা…’”

তার কণ্ঠে মিশে থাকে হাস্য, ব্যঙ্গ, আর এক অপূর্ণ ন্যায়বোধের হাহাকার।

দেশে এখন গরু, ভেড়া, রাজাকার—সবাই পেল কমিশন,
কিন্তু মানুষের জন্য কোনো কমিশন কবে গঠিত হবে?