নিউজ ডেস্ক ::অবৈধ ও বিতর্কিত উপদেষ্টা সরকারের অস্থির সময়েই ফের উঠেছে নতুন ষড়যন্ত্রের গন্ধ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন ছয়জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন বলে সরকার-ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র বলছে—এই তালিকায় রয়েছেন বিতর্কিত নামগুলো: আইসিটি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও জামায়াত ঘনিষ্ঠ আইনজীবী তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আলী রিয়াজ, প্রেস সচিব শফিকুল আলম (ডাস্টবিন শফিক), সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুইয়া, বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল হাসিনুর রহমান, এবং প্রবাসী ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়োগ তালিকা প্রমাণ করে যে ইউনূস সরকার রাজনৈতিকভাবে এক গভীর দিকভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে।
একদিকে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে, কৃষিপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ—অন্যদিকে সরকার প্রশাসনকে শক্তিশালী করার নামে আরও বিভাজন সৃষ্টি করছে।
আইসিটি প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে উপদেষ্টা করার খবর বিশেষভাবে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মহলে। কারণ, তাজুল ইসলামের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বিতর্কিত ভূমিকা তাকে সরকারি দায়িত্বের অযোগ্য করে তোলে বলে মত দিয়েছে বিশ্লেষক সমাজ।
প্রশ্ন উঠেছে—এরা কি দেশের সেবা করবেন, নাকি সরকারের রাজনৈতিক মুখপাত্র হবেন?
প্রেস সচিব শফিকুল আলম ইতিমধ্যেই একাধিকবার অশালীন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন। কর্নেল হাসিনুর রহমান ও পিনাকী ভট্টাচার্য, যারা অতীতে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যে পরিচিত ছিলেন, তাদের উপদেষ্টা করার প্রচেষ্টা জনগণের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনূস সরকার এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নীতি ও যোগ্যতার চেয়ে “বশ্যতা” এবং “বিদেশি প্রভাবের প্রতি আনুগত্য” নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড হয়ে উঠেছে।
অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক দুর্নীতি, রাজনৈতিক অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে দেশের মানুষ আজ ক্লান্ত ও উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় সরকার যদি বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতার কেন্দ্রে বসায়, তাহলে রাষ্ট্র আরও বিপর্যয়ের দিকে যাবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
সাধারণ মানুষ বলছে—“দেশে যোগ্য ও সৎ মানুষ থাকতে কেন বারবার বিতর্কিতদেরই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে?”
তাদের মতে, এটি প্রমাণ করছে, ইউনূস সরকারের লক্ষ্য দেশ পরিচালনা নয়, বরং ক্ষমতায় টিকে থাকার নতুন নাটক মঞ্চস্থ করা।
একটি অনির্বাচিত সরকার যখন নৈতিক বৈধতা হারায়, তখন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হয় ষড়যন্ত্র ও চাটুকারিতার মাধ্যমে। ইউনূস সরকারের এই নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের প্রচেষ্টা সেই পথেই এক ধাপ অগ্রসর।বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির খবরে জনমনে ক্ষোভ
জনগণ বুঝে গেছে—এই সরকার দেশের নয়, নিজেদের রক্ষা করতে মরিয়া। তাই জনমনে এখন একটাই দাবি জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে
“ষড়যন্ত্র নয়, ইউনূস সরকারের অবসান চাই।”