পুলিশ হত্যার বিচার নিয়ে তোলপাড় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে—এমন আলোচনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি বক্তব্য ও ভিডিওকে ঘিরে বিষয়টি আরও আলোচনায় উঠে এসেছে।

সম্প্রতি এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি আন্দোলনের সময় পুলিশ সদস্যদের হত্যার প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। একই সময়ে এক টেলিভিশন আলোচনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

হবিগঞ্জের এক সাবেক সমন্বয়ক মাহদী হাসানের একটি বক্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে, যেখানে সহিংস ঘটনার বিষয়ে দায় স্বীকারের মতো মন্তব্য শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও সত্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রাজনৈতিক অভিযোগের পাল্টাপাল্টি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ সম্প্রতি এক কর্মসূচিতে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করে জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমান এবং শফিকুর রহমান। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতারা পুলিশ হত্যার বিচারের আগে আন্দোলনে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। দলটির নেতাদের একাংশ আবার বিএনপির বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ এনেছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্ত সংস্থাগুলো কাজ করছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

তদন্তের দাবি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ের সহিংসতা নিয়ে যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তারা বলছেন, আন্দোলনের সময় কারা সহিংসতায় জড়িত ছিল এবং কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তবে অনেকেই বলছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে রেখে আইনি কাঠামোর মধ্যেই সমাধান করা জরুরি।