দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, কিছু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এসব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অভিযোগ রয়েছে, আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নেতা হিসেবে আলোচিত মুফতি হারুন ইযহার আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কারাবন্দী জঙ্গিদের মুক্তি এবং সন্ত্রাসবিরোধী মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান। সমালোচকদের দাবি, ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময়ে জসিমউদ্দিন রাহমানিসহ ৩০০-এর বেশি জঙ্গি জামিন পেয়েছে এবং জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত বহু মামলা খারিজ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে “ইসলামী স্কলার” ও “ধর্মভীরু মুসলিম” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই আইনি উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মুফতি হারুন ইযহার। বলা হয়, তিনি তখনকার উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের সমর্থন পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
মুফতি হারুন ইযহারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে তার সঙ্গে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP), লস্কর-ই-তৈয়বা, পাকিস্তানভিত্তিক হুজি-বি (HuJI-B)-এর বাংলাদেশ শাখা, হিজবুত তাহরির, হেফাজতে ইসলাম এবং জামায়াত-শিবির–এর যোগাযোগ রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে HuJI-B গঠনের পর থেকে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে অবস্থিত তার মাদ্রাসাটি একটি আস্তানা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বোমা তৈরির স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বাবা মুফতি ইযহারুল ইসলামকেও এই সংগঠনের একজন পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের সময় HuJI-B একাধিক গ্রেনেড হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব হামলায় আওয়ামী লীগ, বামপন্থী দল, গির্জা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ২১ আগষ্ট ২০০৪ সালে ঢাকায় গ্রেনেড হামলা হয় শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৩ জন নিহত হন এবং তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা । সমালোচকদের দাবি, সে সময় তারেক রহমান জেএমবি ও HuJI-B-এর প্রতি পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে যে ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সংঘটিত AQIS ও ISIS সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় মুফতি হারুন ইযহার সমর্থন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এসব সংগঠন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানের মুখে টিকে থাকার জন্য একত্রিত হয়ে জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকিয়া নামে সংগঠিত হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এই সংগঠনটি ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত সহিংসতা ও পুলিশ হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিল এবং এর পেছনে আন্তর্জাতিক সমর্থনের কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। একই সময়ে কয়েকজন জিহাদি গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইসলামায়ন কার্যক্রমে তার সমর্থন চেয়েছেন বলেও আলোচনা চলছে।