দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর, দেশের একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের “গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা” নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা গোপন নথি অনুযায়ী, ইস্তিয়াক আহমেদ (ওরফে সামি, আবু বকর, আবু মোহাম্মদ) নামে একজন ব্যক্তি দুইজন বহিষ্কৃত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে কিছু প্রতিরক্ষা সদস্যের ব্যক্তিগত যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
২৩ এপ্রিলের একটি গোপন নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো “গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায়” হামলা চালাতে পারে। সম্ভাব্য টার্গেটের মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র এবং শাহবাগ এলাকা। এসব হামলায় বোমা, দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে।
এছাড়াও, এসব সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারেও হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ৮–৯ দিনে বিমান বাহিনী ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অন্তত তিনটি ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে দুইজন স্কোয়াড্রন লিডারসহ বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করেছে। আরও প্রায় এক ডজন বিমানসেনাকে আটক করা হয়েছে এবং ১০–১২ জন সদস্য পলাতক রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত চারজন পাকিস্তান, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড ও পর্তুগালে পালিয়ে গেছে।
বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে TTP-এর এই যোগাযোগের ঘটনায় প্রতিরক্ষা খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও এমন কোনো যোগাযোগ আছে কি না।
বাংলাদেশ পুলিশ দেশের সব থানাকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইস্তিয়াক আহমেদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আরও কিছু নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে। তিনি সিলেটের মোহাম্মদ রাহেদ হোসেন মাহেদ নামের একজনের নাম উল্লেখ করেছেন, যিনি দাশঘর এন ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
অন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ রাকিব হাসান (ওরফে উবাইদা আল উসামা), যিনি ঢাকার ধামরাই থানার শিয়ালকুল চড়দেলধা গ্রামের বাসিন্দা।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, রাকিব হাসান বর্তমানে সাভার ক্যান্টনমেন্টের অধীনে বসুন্ধরা টেক এলাকায় বসবাস করেন এবং একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ গ্রামের বাড়িতে যাননি।