ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় নিজের বর্তমান পদমর্যাদা ও নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। মামলার নথিতে তাকে ‘বরখাস্ত’ হিসেবে উল্লেখ করায় তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “মাননীয় আদালত, আমি বরখাস্ত নই, আমি অবসরপ্রাপ্ত।”
রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে শুনানির এক পর্যায়ে তিনি এই দাবি করেন। জিয়াউল আহসান অভিযোগ করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং একটি বিশেষ মহলকে সন্তুষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে নথিপত্রে ভুল তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে।
‘মিথ্যা সাক্ষ্য ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ
আদালত কক্ষে জিয়াউল আহসান দাবি করেন, তাকে ফাঁসানোর জন্য একের পর এক সাজানো ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন:
তাকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করতে ‘বরখাস্ত’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আইনত সত্য নয়।
দেশের জন্য কাজ করা একজন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের জালে আটকানো হচ্ছে।
মামলার নথিতে তথ্যের এই বিভ্রান্তি তার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আদালতের পরিস্থিতি
শুনানি চলাকালে জিয়াউল আহসানকে বেশ বিচলিত ও ক্ষুব্ধ দেখা যায়। তিনি বারবার দাবি করেন যে, তার বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চলছে। তার আইনজীবীরাও আদালতে নথিপত্রের এই অসংগতির বিষয়ে কথা বলেন এবং এটি সংশোধনের দাবি জানান।
প্রেক্ষাপট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে তাকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে এলেও, তিনি আজ আদালতে নিজেকে ‘অবসরপ্রাপ্ত’ হিসেবেই দাবি করেন।
আদালত শুনানি শেষে তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আদেশ দেন। এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।