নিউজ ডেস্ক :: ধর্মের পবিত্র মঞ্চ কখনোই মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার স্থান নয়। অথচ এক সময় এই পবিত্র মঞ্চকে ব্যবহার করে যারা বিভ্রান্তি, বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কাজ করেছেন, তারা আজ জনগণের কঠোর ঘৃণার মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক এক ওয়াজ মাহফিলে জামায়াত নেতা আমির হামজা মঞ্চে উঠতেই জনতার প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উপস্থিত মানুষ ঘৃণায় তার দিকে জুতা নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানান। এটি নিছক এক ব্যক্তির প্রতি ক্রোধ নয় এটি মিথ্যাচার, প্রতারণা ও ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনতার সরব জাগরণ।
আমির হামজা দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত বক্তব্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ওয়াজের মঞ্চকে ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে। ইতিহাস বিকৃতি, উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের সাফল্যকে অস্বীকার এবং তরুণ সমাজের মনে সন্দেহের বীজ বপন এসবই ছিল তার বক্তৃতার মূল বৈশিষ্ট্য। ধর্মের পবিত্র বাণীর আড়ালে রাজনীতির বিষ ঢালাই করাই ছিল তার লক্ষ্য।
কিন্তু সময় আর আগের মতো নেই। বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সত্য গোপন রাখা যায় না। ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর যে অপচেষ্টা একসময় সহজেই সফল হতো, আজ তা মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে উন্মোচিত হয়ে পড়ে। নতুন প্রজন্ম এখন যুক্তি চায়, প্রমাণ চায় অন্ধ আনুগত্য নয়।
আমির হামজার মতো ধর্মব্যবসায়ীদের জন্য এটাই সতর্কবার্তা ধর্মের আবেগকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারিত করার যুগ শেষ। ইসলামের বাণী বিকৃত করে যারা রাজনীতির স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তারা আজ সমাজে একঘরে হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জনগণ সব সময় ধর্মপ্রাণ, কিন্তু কখনোই ধর্মান্ধ নয়। তারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ভালোবাসাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থসিদ্ধি করতে চায় এমন ভণ্ডদের আর সহ্য করবে না। মিথ্যার মুখোশ আজ খুলে গেছে; আমির হামজার জনরোষে অপমান সেই প্রতীকী সত্যেরই প্রতিফলন।