সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে ‘দ্যা ফারুকী সিন্ডিকেট’: ১১০ কোটির প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ,

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি ‘ভাই-বেরাদর’ গ্রুপের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়জুড়ে ব্যাপক অনিয়ম, তদবির বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
১১০ কোটির ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ প্রকল্পে প্রশ্ন
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণ প্রকল্প। সূত্র জানায়, প্রায় ১১০ কোটি টাকার বেশি বাজেটের এই প্রকল্পে প্রচলিত উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়িয়ে ‘ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট’ বা সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কেন সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ না করে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি গ্রহণ করা হলো এবং এতে কারা লাভবান হয়েছেন।
ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ ইমেল হক সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বেনামী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। এর মধ্যে রাজধানীর মুগদার কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেটে অবস্থিত ‘মেসার্স মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’সহ একাধিক ‘কাগুজে’ প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
টিআইবির উদ্বেগ
গণভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণে সরকারের অনুমোদিত প্রায় ১১১ কোটি টাকার ব্যয়পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির নামে যেভাবে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে মানদণ্ড থাকা উচিত, তা গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টিআইবি আরও জানিয়েছে, বড় অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা না হলে দুর্নীতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।