সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের ‘ঘেরাও কৌশল’: যেভাবে ক্ষমতা হারালেন শেখ হাসিনা,

লেখক: এনায়েত কবির,
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-এর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা Directorate General of Forces Intelligence (ডিজিএফআই) এবং National Security Intelligence (এনএসআই)-এর প্রধানরা পরিকল্পিত কৌশলে তাকে প্রথমে নির্ভরশীল করে পরে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।
৫ আগস্টের নাটকীয় দিন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF) কর্মকর্তারা দিকনির্দেশনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত ছিলেন না।
এর কিছুক্ষণ আগে উত্তরা এলাকায় কারফিউ ব্যারিকেড হঠাৎ তুলে নেওয়া হয়। একই সময় Waker-uz-Zaman জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে ঘোষণা আসে—যা কার্যত ক্ষমতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
‘বড় রাজনৈতিক ভুল’
সহিংস ‘কোটা বাতিল আন্দোলন’ মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করা ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল—এমন মন্তব্যও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
হঠাৎ দেশত্যাগ
একটি সামরিক বিমানে করে শেখ হাসিনা ও তার বোন Sheikh Rehana দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন। ভারতীয় মাটিতে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তার কারণে তাকে সেখানেই থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর আগে ৪ আগস্ট রাতে সেনা সদর দপ্তরে তাকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বা টুঙ্গিপাড়ায় নিরাপত্তায় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরদিন পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে সেই পরিকল্পনা বদলে যায়।
রাষ্ট্রীয় শূন্যতা ও হামলা
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা ও ভাঙচুর হয়। গণভবন, সংসদ ভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ ওঠে। তবে SSF এ সময় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি।
ফলে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ‘নন-স্টেট অ্যাক্টরদের’ হাতে চলে যায়।
বিচার বিভাগে চাপ
ঘটনার পর প্রধান বিচারপতিসহ একাধিক বিচারককে জনতার চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। সেনাবাহিনীর ‘নির্বাচিত নিষ্ক্রিয়তা’ বিচার বিভাগকে ঝুঁকির মুখে ফেলে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় ও গ্রেপ্তার
আইএসপিআর জানায়, ৬২৭ জন ব্যক্তি বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজনীতিবিদ, বিচারক, পুলিশ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী।
কেউ দেশত্যাগের সুযোগ পান, আবার অনেককে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাবেক আইজিপি Abdullah Al Mamun-কেও প্রথমে আশ্রয় দেওয়া হলেও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক পালাবদল
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক Obaidul Quader যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে ভারতে চলে যান।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পুনর্বাসনের পথ খুলে যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেনাপ্রধানের সঙ্গে দলটির নেতাদের বৈঠকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ
১৬ জুলাই থেকে ডিজিএফআই ও এনএসআই আন্দোলনকে সহিংস দিকে ঠেলে দেয়—এমন অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। ছয়জন ছাত্রনেতাকে আটক করে জোরপূর্বক বিবৃতি নেওয়ার ঘটনাও আন্দোলনকে আরও উসকে দেয়।
উপসংহার
পুরো ঘটনাপ্রবাহে পরিকল্পিত কৌশল, সেনাবাহিনীর নির্বাচিত ভূমিকা এবং প্রশাসনিক শূন্যতা—সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে বলে বিশ্লেষকদের মত।

(চলবে)