নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক জটিল ও উদ্বেগজনক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জনগণের অংশগ্রহণবিহীন একটি তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের নেপথ্যে চলছে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিত খেলা। এই খেলায় প্রধান লক্ষ্য—দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল **আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে** একতরফা নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং বিদেশি কূটনৈতিক সমর্থন ও সামরিক প্রভাব ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসা।
বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও তাদের সহযোগী শক্তিগুলো এই রাজনৈতিক প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃঢ় ধারণা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে, এই “ইলেকশন প্রজেক্ট” কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়—এটি একটি **পরিকল্পিত ক্ষমতা দখলের কৌশল*, যেখানে জনগণের ভোট নয়, বরং কূটনৈতিক তদবির ও সামরিক চাপই মুখ্য অস্ত্র।
*সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলা*
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে **সেনাবাহিনীকে ব্ল্যাকমেইল ও ব্যবহার করার চেষ্টা**। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে হঠাৎ করেই একের পর এক মামলা, তদন্ত ও অভ্যন্তরীণ নজরদারির প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নয়; বরং ভবিষ্যতে যেসব সেনা কর্মকর্তা তথাকথিত নির্বাচনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে অস্বীকার করবেন, তাদের ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবেই এসব মামলা সাজানো হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়াটি আসলে এক ধরনের **সফট ব্ল্যাকমেইলিং মেকানিজম**, যেখানে সেনাবাহিনীকে বলা হচ্ছে “অংশগ্রহণ না করলে মামলা, নির্দেশ মানলে পুরস্কার।” ফলে যে বাহিনী স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রের সার্বভৌম রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে, তাকে আজ রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও বিভক্ত করার এক নীরব প্রচেষ্টা চলছে।
*বিদেশি প্রভাব ও ইউনুস সরকারের কূটনৈতিক কৌশল*
ইউনুস সরকার শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে নির্ভরতার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য ভাঙার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিদেশি কূটনৈতিক চ্যানেলকে ব্যবহার করে সেনা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি, চেইন অব কমান্ড দুর্বল করা, এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা গুলিকে রাজনৈতিক নির্দেশে পরিচালনার প্রক্রিয়া এখন প্রকাশ্য গোপন তথ্যের পর্যায়ে।
এই অবস্থাকে অনেকে বলছেন—অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিজিম চেঞ্জ ডিজাইন যেখানে সরকার গঠনের লক্ষ্য নয় শুধু; বরং **গণতন্ত্রের কাঠামোকেই পুনর্লিখনের চেষ্টা চলছে।**
*গণতন্ত্র থেকে শাসনতন্ত্রে রূপান্তর*
যে কোনো নির্বাচন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিফলিত করে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ বা প্রান্তিক করে যেভাবে একটি সাজানো নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে মূলত গণতন্ত্রকে **শাসনতন্ত্রে রূপান্তর** করা হচ্ছে। এমন এক ব্যবস্থায় ভোটার নয়, বরং ক্ষমতাধারী গোষ্ঠীই ঠিক করবে কে সংসদে যাবে, কে রাষ্ট্র চালাবে।
অতীতে বাংলাদেশ বহুবার এমন ভোটবিহীন শাসনের পরিণতি দেখেছে প্রতিবারই জনগণই শেষ পর্যন্ত সেই অবৈধ কাঠামো ভেঙে দিয়েছে।
*রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক দিকনির্দেশ*
বর্তমান অবস্থার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো,সেনাবাহিনীকে একটি রাজনৈতিক প্রজেক্টের অংশে পরিণত করার প্রবণতা। যদি কোনো বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পায়, তবে তা কেবল গণতন্ত্র নয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করবে। সেনা বাহিনীকে “আদেশনির্ভর বাহিনী” বা “ব্যর্থ বাহিনী”তে পরিণত করার নকশা শেষ পর্যন্ত জাতির সার্বভৌমত্বে আঘাত হানবে।
বাংলাদেশের মানুষ জানে ভোটই জনগণের ক্ষমতার উৎস। সেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে কোনো সরকার টিকতে পারে না। আজ প্রয়োজন গণতান্ত্রিক ঐক্য, সংলাপ ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। যে সরকার জনমতের বাইরে গিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তার পরিণতি ইতিহাসের পাতা আগেই লিখে রেখেছে।
সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক খেলায় টেনে এনে, মামলা ও ভয়ের রাজনীতি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা কেবল ক্ষমতার লোভ নয় এটি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের সূক্ষ্ম রূপ। বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে এখনই এই “তথাকথিত ইলেকশন প্রজেক্ট”** থামাতে হবে না হলে রাষ্ট্র নামবে আরও গভীর অন্ধকারে।