সেনা সদর দপ্তর তিনজন মেজর জেনারেলকে— সেফ এক্সিট দিলেও, চতুর্থজনকে আটক করল কেন?

লেখক: এনায়েত কবির,
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: সেনা সদর দপ্তর তিনজন মেজর জেনারেলকে— সেফ এক্সিট দিলেও, চতুর্থজনকে আটক করল কেন?

অথচ সেফ এক্সিট দেয়া তিনজন মেজর জেনারেল শেষ সময় পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অন্যদিকে, সেনা সদর দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে চতুর্থ এক মেজর জেনারেলকে গ্রেপ্তার করেছে, এবং যার বিরুদ্ধে এতগুলো ফৌজদারি মামলা দেয়া হয়েছে যে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃ*ত্যুদণ্ডও হতে পারে!

এখন নিশ্চিত করে বলা যায় যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ শীর্ষ সেনা নেতৃত্ব ওই তিন মেজর জেনারেলকে সেফ এক্সিট দিয়েছেন। তারা হলেন সাবেক D,G’FI প্রধান হামিদুল হক, N,S’I ডিরেক্টর জেনারেল মো. জোবায়ের এবং শেখ হাসিনার সামরিক সচিব কবির আহমেদ।

২০২৪ সালের মে-জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে এই তিনজনকে বিদেশে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়।

এই তিন মেজর জেনারেল সরাসরি শেখ হাসিনার কাছে রিপোর্ট করতেন— যারা জুলাই জ*ঙ্গি হা’মলায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জড়িত থাকার ব্যাপারে ‘অনেক বেশি তথ্য জানতেন’।

এবার কথা বলছি সেই মেজর জেনারেল সম্পর্কে, যিনি এখন বিপদে পড়েছেন— তিনি হলেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।

জিয়াউল আহসান— অত্যন্ত সংবেদনশীল ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) প্রধান ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও নর্থইস্ট নিউজের পাওয়া নথি অনুযায়ী, ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজেদেরই সেনাসদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে। (সে বিষয়ে বিস্তারিত আগের এক পোস্টে লিখেছি)

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সরাসরি নির্দেশেই এই গ্রেপ্তার হয় এবং পরে তাকে সেনাপ্রধানের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে ওয়াকার তাকে কড়া ভাষায় জানান— তার কেরিয়ার শেষ, এমনকি তার চেয়েও “খারাপ কিছু” হতে পারে।

সূত্রমতে, সেনাসদস্যরা তাকে নিয়ে যাওয়ার আগে, তার মোবাইলে সেনাসদর দপ্তর থেকে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি ফোন আসে। প্রথম কলকারী বিনয়ের সঙ্গে জানান— ‘সেনাপ্রধান লাইনে আছেন’। দ্বিতীয় কলকারী তাকে বলেন, ‘একটা গাড়ি আসছে, তাতে উঠে পড়তে হবে।’

সেসময় জিয়াউল আহসান পরিবারকে জানিয়েছিলেন, “আমি পালানোর চেষ্টা করব না, যা হওয়ার মুখোমুখি হব।” তবে তার আগে তিনি পরিবারের সদস্যদেকে (ঢাকা সেনানিবাসের বাইরে) বাসার একটি নিরাপদ অংশে সরিয়ে নিয়ে যান এবং বলেন, “আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফিরতে না পারলে, সেনানিবাসে গিয়ে জানিয়ে দিও— আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

জিয়াউল আহসান প্রায় নিশ্চিত ছিলেন যে, তাকে গু*লি করে হত্যা করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং তাকে সশ’স্ত্র পাহারায় নির্জর আবাসিক এলাকার D*G’FI এর একটি ‘সেফ হাউসে’ নিয়ে যাওয়া হয়— যা ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে একটি পরিকল্পিত আবাসন এলাকা। সেখানে রুম নং ৬০৪-এ তাকে রাখা হয়।

আর অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সেনানিবাসে তার সরকারি বাসভবনে এক কোম্পানি সেনাসদস্য গিয়ে পুরো বাড়ি তছনছ করে ফেলে। সেনা সদস্যরা ড্রইংরুমের সোফা থেকে শুরু করে বিছানার গদি পর্যন্ত সবকিছু ছিঁড়ে ফেলে— ‘দৃশ্যত সেন্সিটিভ কিছু খোঁজার জন্য’

প্রশ্ন হলো, এই সেনা ইউনিটটি জিয়াউল আহসানের সরকারি বাসভবন থেকে কী উদ্ধার করতে চেয়েছিল? এনটিএমসি প্রধান হিসেবে আহসান সেই সংস্থার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা মূলত সরকারি কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের সন্দেহজনক ও রাষ্ট্রবিরোধী টেলিযোগাযোগ ‘ওভারহিয়ার’ বা ‘ইয়ারড্রপ’ করত।

বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী, গোয়েন্দা সংস্থা ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রচিত জুলাই জ*ঙ্গি হামলা সম্পর্কিত পুরো বা আংশিক কোন তথ্য কি জিয়াউল আহসান জানতেন? আর সেজন্যই কি তাকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়েছিল সেনা শীর্ষ নেতৃত্ব?

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এতগুলো ফৌজদারি মামলা দেয়া হয়েছে যে, তার মৃ*ত্যুদ’ণ্ডও হতে পারে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র বলছে, জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার ও তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জোবায়ের, হক ও কবির আহমেদকে খুঁজে বের করতে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতি সন্দেহকে আরও উসকে দেয় যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ষড়যন্ত্রে জড়িত তাদের এক ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশ মিলে কাজ করছে— “যে সব কর্মকর্তা হাসিনাকে উৎখাতের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের ‘রক্ষা’ করতে।”