ঢাকা: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে বাংলা পঞ্জিকার ৮ই ফাল্গুনে পালনের প্রস্তাব দিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মাসুদ সাঈদী। এক সভায় দেওয়া তার এ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করতে দিবসটি বাংলা তারিখ অনুযায়ী পালন করা যেতে পারে। তবে তার এই প্রস্তাবের পরপরই সমালোচকরা এটিকে “অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক উসকে দেওয়া” এবং “ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২১ ফেব্রুয়ারি কোনো সাধারণ তারিখ নয়; এটি ১৯৫২ সালের সেই দিন, যেদিন বাংলা ভাষার দাবিতে ছাত্ররা প্রাণ উৎসর্গ করেন। পরবর্তীতে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে তারিখটি শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
সমালোচকদের প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি দিবসের নির্দিষ্ট তারিখ পরিবর্তনের প্রস্তাব কতটা যৌক্তিক? কেউ কেউ মনে করছেন, এমন বক্তব্য জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়গুলোতে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরি করতে পারে।
তবে সমর্থকদের একটি অংশ বলছেন, বাংলা তারিখে দিবস পালনের প্রস্তাব সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন নেই।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।