দিনপত্র ডেস্ক :: শেষ মুহূর্তেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আশ্বাস দেন সেনাপ্রধান; দেশজুড়ে হামলা, লুট ও সহিংসতায় ভেঙে পড়ে প্রশাসন
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভীর রাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক গোপন টেলিকনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ কার্যত নির্ধারিত হয়ে যায়—এমনই দাবি উঠেছে বিভিন্ন সূত্রে। অভিযোগ করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ‘পরোক্ষ অভ্যুত্থান’-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেখ হাসিনাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা ছাড়তে হয়, গন্তব্য ছিল দিল্লি। তবে এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আশ্বাস দিয়ে যান।
সূত্রগুলো জানায়, ওই টেলিকনফারেন্সে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। সে সময় দেশে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার পতন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এদিকে একই সময়ে দেশের প্রায় ৪০০টি থানায় সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নিরস্ত্র পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি লুট হয়, যার অধিকাংশই এখনো উদ্ধার হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার পরও পুলিশকে যথাযথ তদন্ত করতে দেওয়া হয়নি, ফলে বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ে।
সেনাবাহিনী ১৬ জুলাই থেকে মাঠে নামলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। বরং গোয়েন্দা তথ্য সঠিকভাবে সরকারের কাছে না পৌঁছানোর অভিযোগ ওঠে কিছু সাবেক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সহিংসতায় ৪৩ জন নিহত হন, যার দায় সরকারের ওপর বর্তায় এবং জনরোষ তীব্র হয়ে ওঠে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিছিলের মধ্যে হঠাৎ লোকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যাচ্ছে, তবে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশও এসব ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও এসব অজ্ঞাত হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সাবেক ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলেন, স্নাইপার ও ৭.৬২ মিমি গুলির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে বিতর্ক তীব্র। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি মন্তব্য করেন, “পুলিশ হত্যার বিচার হবে না, এটি যুদ্ধক্ষেত্রেই নিষ্পত্তি হয়েছে।” অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তা এখনো স্পষ্টভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।