দিনপত্র ডেস্ক :: ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের উত্তাল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ৯ম পদাতিক ডিভিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, ওই দিন ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মঈন খানকে কেন এবং কার নির্দেশে ‘স্ট্যান্ডবাই’ অবস্থায় রাখা হয়েছিল—তা এখনো রহস্যাবৃত।
তৎকালীন পরিস্থিতিতে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন কোটা সংস্কার আন্দোলন ক্রমেই সহিংস রূপ নিতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তা সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। এমন প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফোর্স হিসেবে বিবেচিত ৯ম পদাতিক ডিভিশনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত থাকলেও, বাস্তবে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট রাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মেজর জেনারেল মঈন খানকে প্রস্তুত অবস্থায় থাকতে বলা হলেও, তাকে কোনো সরাসরি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে, ডিভিশনটি কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকে যায়।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ওই রাতের মধ্যরাত থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। মাঠপর্যায়ে একের পর এক উদ্বেগজনক তথ্য পৌঁছালেও, সেনাবাহিনী সদর দপ্তর থেকে কোনো সুস্পষ্ট নিরাপত্তা কৌশল বা প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় ২০ মাস পর এই বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময়ের সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
তবে, ঠিক কী কারণে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভিশনকে নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।