ইউনুসের ছত্রচ্ছায়ায় সেনাবাহিনীর বিশ্বাসঘাতকতা, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধ রক্ষার লড়াই শুরু হোক

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ড. ইউনুস আজ সেনাবাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন। তার ছায়াতলে স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে, আর সেনাবাহিনী তাদের পাহারাদার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে দমন, গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা এখন সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেনাবাহিনীর ভেতরে দিকভ্রান্ত কিছু কর্মকর্তা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে মদদ দিচ্ছেন। নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আইএস, হরকাতুল জিহাদ, পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারীদের তারা প্রকাশ্যে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। থানায় অস্ত্র লোপাট, পুলিশ হত্যা, ছিনতাই, দখলদারিত্ব—এসব অপরাধে সেনাবাহিনীর একাংশের সংশ্লিষ্টতা এখন প্রকাশ্য গোপন নয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ হলো গোপালগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা এবং অন্তত ৫০ জনকে গুম করার অভিযোগ। এটি শুধু মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এক অশুভ সংকেত।

অন্যদিকে যারা শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্দোলন করছে, তাদের ওপর চলছে দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন। স্বাধীনতা রক্ষার শপথ নেওয়া সেনারা আজ সেই শপথ ভঙ্গ করে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

আজকের সেনাবাহিনীর এই কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই পাকিস্তানি সেনাদের ভয়াল ছায়াকে ফিরিয়ে আনছে। জঙ্গি-মৌলবাদীদের সঙ্গে আঁতাত, স্বাধীনতা বিরোধীদের মদদ আর দমননীতির মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। “দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী” তকমা আজ গভীর প্রশ্নবিদ্ধ।

ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকারকে মাথায় তুলে রেখেছে সেনাবাহিনী। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বদলে তারা পাহারা দিচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গিদের, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা মানুষকে হত্যা করে পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে, লাশ ঝুলিয়ে রাখছে, জেলখানায় আটককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করছে। প্রতিদিন এ ধরনের ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটছে, অথচ ভুক্তভোগীর পরিবার বিচার চাইতে পারছে না— মামলা নেওয়া হচ্ছে না।

একটি পক্ষ আফগানিস্তানের তালেবান আদর্শে ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের ষড়যন্ত্র করছে। এই মৌলবাদী গোষ্ঠীদেরও পাহারা দিচ্ছে ইউনুস সরকারের সেনাবাহিনী। ফলে সেনাবাহিনীকে আজ সাধারণ মানুষ সন্দেহের চোখে দেখছে।

একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে অবৈধ সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার সত্য এখন দেশের প্রতিটি নাগরিক জানে। এর ফলেই দেশে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে, মানুষ আজ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। এই অশান্তি ও অস্থিরতার জন্য জনগণ সরাসরি সেনাবাহিনীকে দায়ী করছে।