ভারতে শান্তি মিশন ও কাউন্টার টেররিজম সম্মেলনে সেনাপ্রধানের অনুপস্থিতি, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: জাতিসংঘের শান্তিবাহিনী মিশন থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ফেরত আনা এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ড. ইউনুস ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিল বর্তমানে বেশ ব্যস্ত। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকার বাংলাদেশ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে আগামী ১৩-১৬ অক্টোবর ভারতে অনুষ্ঠিত দুইটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রেখেছে।

প্রথমত, ১৪ অক্টোবর দিল্লিতে জাতিসংঘের শান্তিবাহিনী মিশনে সেনাবাহিনী প্রেরণকারী ৩০টি দেশের সেনাপ্রধানদের নিয়ে দুইদিনব্যাপী একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে, ১৩-১৬ অক্টোবর ভারতের আয়োজনে সাউথ এশিয়া কাউন্টার টেররিজম কনফারেন্স ২০২৫-এরও একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সেনাপ্রধানের অনুপস্থিতিতে এই দুই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করবে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাপ্রধানকে না পাঠিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো মানে ড. ইউনুস সরকার শান্তি মিশন এবং ৩০ দেশের সেনাপ্রধানদের উপস্থিতিকে কম গুরুত্বের হিসেবে দেখেছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের কূটনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রতি অস্পষ্ট বার্তা প্রদান করছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেনাপ্রধানের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ কেবল কূটনৈতিক বা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নয়, বরং দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার দৃঢ় অবস্থানকেও দৃশ্যমান করে।

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নির্দেশ করছে, সেনাপ্রধান বিভিন্ন ভ্রমণে যেমন আমেরিকা, মালয়েশিয়া, চীন ও কাতার সফর করছেন। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশে ৩০ দেশের মিলনমেলায় তার অনুপস্থিতি দেশের শান্তি রক্ষায় অবদানকে কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে দেশে এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রভাব সীমিত হতে পারে।