খাদ্য , অর্থনীতির ভাঙনের মধ্যে মানুষ ক্রমশ অসহায়, বিদেশী বিনিয়োগ থমকে গেছে, জনরোষ বেড়ে চলেছে

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: রোদ ঝলমল করছে, শহরের বাজার কেঁপে উঠছে দাম ও চাহিদার ভারে। মুদি দোকানগুলোতে চাল, আলু, পেঁয়াজ সবই কম মজুদ, দাম আকাশছোঁয়া। দোকানদাররা ক্রেতাদের দিকে চেয়ে হালকা করে মাথা নাড়ে।
“দাম এত বেশি, বাচ্চাদের জন্য কিনতেই হবে,” বললেন মোসনা বেগম। চোখে হতাশার ছাপ, হাতে ব্যাগ। বাজারে ক্রেতারা হাঁটছেন—কেউ কেউ পণ্য তুলছেন, কেউ আবার ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।

গ্রামের দৃশ্য আরও করুণ। ধানক্ষেতের মাঝখানে মুরাদ আলী হাল ধরে দাঁড়িয়ে। সার ও বীজের অভাব উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশে ছেলে-মেয়ে বসে, নিস্তব্ধ চেহারা।
“গত বছর এই সময় আমরা ধান কেটে বাজারে বিক্রি করতে পারতাম, এবার কি হবে জানি না,” তিনি বললেন। পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, চাঁদাবাজি ও অসম বণ্টন কৃষককে আরও হতাশ করছে।

*চারপাশে লুটপাট ও সহিংসতার ছায়া*

শহরের রাস্তায় লুটপাট ও সহিংসতার খবর। গৃহস্থরা নিরাপদ নয়। বৃদ্ধা রাস্তার ধারে বসে গাড়ি গিয়ে পার হতে দেখছে আতঙ্কে। শিশুদের চোখে ভয়, পিতামাতা উৎকণ্ঠায়। হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। চারদিকে খুন, লোপাট, সহিংসতার ঘটনা—সবার মনে আতঙ্ক।

রাজনৈতিক অফিসগুলোও ব্যস্ত। নেতা-নেত্রীরা ক্ষমতা রক্ষার নাটক চালাচ্ছে। বিএনপি, জামাত, এনসিপি—প্রত্যেকে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। দেশের প্রধান উপদেষ্টা দেশের অর্থ লোপাট করে বিদেশে পাচার করছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশীদের ইজারায় দিচ্ছে কমিশন খেয়ে। সাধারণ মানুষ ক্রমশ ক্ষুব্ধ। দেশের প্রতি জনরোষ বেড়েই চলেছে।

*কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর চাপে সাধারণ মানুষ*

কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সার ও বীজের অভাব, উৎপাদন কমে যাওয়া, ন্যায্য মূল্য না পাওয়া—সব মিলিয়ে হতাশা বাড়াচ্ছে।
“আমরা নিজ হাতে ধান জন্মাই, কিন্তু বাজারে বিক্রি করি ঠিকমতো নয়। আমাদের খামার এবং পরিবার উভয়ই ঝুঁকির মধ্যে,” বলেন রফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের একজন কৃষক।

শহরের ব্যবসায়ীরাও প্রভাবিত। পণ্য যোগান কমে যাওয়ায় ব্যবসা ব্যাহত। ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ব্যাংক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানও স্থিতিশীল নয়। বিদেশী বিনিয়োগ আসছে না। অবৈধ ও অদক্ষ সরকারের কারণে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল নয়।

*সরাসরি সাক্ষাৎকার: জনরোষের উদ্ভব*

একজন বিশিষ্ট নাগরিক নাম প্রকাশ না করে বললেন, “এই অবৈধ ও অদক্ষ সরকারের কারণে আমাদের দেশ ঝুঁকির মধ্যে। জনগণ ক্রমশ ক্ষুব্ধ হচ্ছে। আমরা চাই অবিলম্বে পদত্যাগ। বিনিয়োগকারী ও বিদেশী প্রতিষ্ঠান আসছে না, কারণ তারা জানে নিরাপদ পরিবেশ নেই।”

একজন মহিলা শ্রমিক যোগ করলেন, “আমরা শুধু বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছি। সরকারকে দেখাতে হবে তারা সাধারণ মানুষের জন্য আছে। নয়তো ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা সবাই কষ্টে পড়ব।”

*অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাঙন*

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়া, লুটপাট, বাজারের চাঁদাবাজি এবং অযোগ্য সরকারের ব্যর্থতা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা ঝুঁকির মধ্যে। ব্যাংক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নিরাপদ পরিবেশ না পেয়ে দেশের মধ্যে বিনিয়োগ স্থগিত করছে।

শহর ও গ্রামে একই চিত্র। শিশুদের চোখে আতঙ্ক, পরিবারের মায়েদের চোখে উদ্বেগ। কৃষক হাল ধরে দাঁড়িয়ে আশার খোঁজে। বাজারের হতাশা চোখে পড়ে।

*সমাধানের নির্দেশনা*

এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের সেবা। অবৈধ সরকারের পদত্যাগ না হলে দেশের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। ন্যায্য বণ্টন, উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের প্রধান দাবি।

দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে—কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার ওপর। জনরোষ বেড়ে চলেছে। সরকারের ব্যর্থতা, লুটপাট ও চাঁদাবাজি দেশের স্থিতিশীলতা ভেঙে দিচ্ছে। এখনই সময় নাটক ও স্বার্থপর কৌশল থেকে সরে এসে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার। না হলে দেশের জনদুর্ভোগ, খাদ্য সংকট এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।