নিউজ ডেস্ক ::ঢাকার একটি হোটেল কক্ষে টেরেন্স আরভেল জ্যাকসনের মরদেহ উদ্ধারের প্রায় আড়াই মাস পর জানা যাচ্ছে, এই মার্কিন স্পেশাল ফোর্স (এয়ারবোর্ন) কর্মকর্তা বাংলাদেশে আগমনের পর চার মাসে অন্তত তিনটি জেলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনা পরিদর্শন করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম নৌঘাঁটি—বিএনএস ঈসাখান—যেখানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রাখা হয়।
নর্থইস্ট নিউজ-এর ৭ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে ঢাকা মহানগর পুলিশের সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ৫০ বছর বয়সী জ্যাকসন “তার দেশের সরকারের কাজের জন্য” বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ করেছিলেন।
জ্যাকসন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স (এয়ারবোর্ন) অফিসার ছিলেন। তিনি আগেই স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে একটি মার্কিন প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানিতে যোগ দেন। ধারণা করা হয়, তার মূল সামরিক ইউনিট ছিল ১৬০তম স্পেশাল অপারেশন্স এভিয়েশন রেজিমেন্ট (এয়ারবোর্ন), যাদের ডাকনাম ‘নাইট স্টকার্স’।
ঢাকার দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে তার রুম বুকিং করে দেয় ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস—ইমেইলের মাধ্যমে। ৩১ আগস্ট হোটেলের ৮০৮ নম্বর রুম থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো তিনজন মার্কিন কূটনীতিক ময়নাতদন্তের অনুমতি দেননি এবং দ্রুত মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেন। ১৯৭৫ সালের ২৭ মে ওহাইও-তে জন্ম নেওয়া জ্যাকসন সম্ভবত অ্যারিজোনাতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি ঢাকার দ্য ওয়েস্টিন হোটেলেই অবস্থান নেন। এ সময় তার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পা রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি রাজশাহী, সিলেট এবং চট্টগ্রাম নৌঘাঁটি পরিদর্শন করেন।
চট্টগ্রামের বিএনএস ঈসাখানের আশপাশেই রয়েছে নৌডকইয়ার্ড, বাংলাদেশ নৌবাহিনী একাডেমি এবং ছোট ছোট ঘাঁটি—বিএনএস উল্কা ও বিএনএস ভাটিয়ারি।
রাজশাহী ও সিলেট সফর নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয়, তিনি রাজশাহীতে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার এবং সিলেটে ১৭তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন ও জালালাবাদ সেনানিবাস (যেখানে দেশের প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড অবস্থিত) সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়েছিলেন।
কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে যে জ্যাকসন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ সেশনে যুক্ত ছিলেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মনে করছেন, তার রাজশাহী সফরের একটি উদ্দেশ্য ছিল রিচার্ড ড্যানিয়েল রোমান নামের আরেক মার্কিন নিরাপত্তা কনট্রাক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। রোমান, যিনি মাকওয়া গ্লোবাল সলিউশনের অধীনে কাজ করেন, রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ হোটেলে অবস্থান করতেন—যা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের ঠিক বিপরীতে।