নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করে যারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের স্বপ্ন দেখছেন, তারা হয় ইতিহাস ভুলে গেছেন, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয় এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িত একটি শক্তি। সেই শক্তিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন মানে দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়া।
জনগণ চুপ করে থাকবে—এই ধারণা মারাত্মক ভুল
যারা মনে করছেন আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলেও মানুষ নির্বিকার থাকবে, তারা ভয়ংকর ভুল করছেন। বাস্তবতা হলো—এমন নির্বাচন হলে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স পৌঁছানোই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ, কেন্দ্র অবরোধ এবং ভোট বর্জনের দৃশ্য অস্বাভাবিক হবে না। কারণ জনগণ জানে, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার রাজনীতিকে বাইরে রেখে নির্বাচন মানে একটি প্রহসন।
সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে
ইনুদের মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তদাতাদের ভুল হিসাব ও আত্মতুষ্ট নীতির খেসারত আজ দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। দ্রব্যমূল্যের চাপ, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। এই ক্ষোভ যদি নির্বাচনের দিন বিস্ফোরিত হয়, তার দায় কেউ এড়াতে পারবে না।
নিরাপত্তা নয়, সংকটই হবে মূল বাস্তবতা
প্রশাসনিক ভাষণে যতই “নিরাপত্তা নিশ্চিত” করার কথা বলা হোক না কেন, বাস্তবতা হলো—অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া কোনো নিরাপত্তা পরিকল্পনাই কার্যকর হয় না। প্রার্থী, নির্বাচনী কর্মী এমনকি সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। এটি শুধু আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন।
উন্নয়নের রাজনীতিকে বাদ দিয়ে ভোট—গ্রহণযোগ্য নয়
যে দলটি সেতু, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, ডিজিটাল অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করেছে, সেই দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে জনগণ তা মেনে নেবে—এমন চিন্তা রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে চরম অজ্ঞতার পরিচয় দেয়। ভোটের নামে এমন আয়োজন জনগণের চোখে বৈধতা পাবে না।
এখনো সময় আছে
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে এখনো যদি রাজনৈতিক বোধোদয় ঘটে, তবে সংলাপ ও সমঝোতার পথ খোলা আছে। সব প্রধান রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে দেশকে অস্থিরতা থেকে বাঁচাতে। অন্যথায় ইতিহাস সাক্ষী থাকবে—এই একগুঁয়ে সিদ্ধান্তই জাতিকে নতুন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।