ইউনুস সরকারের অধ্যাদেশ ঘিরে বাংলাদেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ঢাকা: ফের বিতর্কে জড়াল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের জারি করা এক অধ্যাদেশে জুলাই–আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া অশান্তি ও হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রকের জারি করা গেজেট অনুযায়ী, রবিবার গভীর রাতে এই আদেশ কার্যকর হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত তথাকথিত ‘উত্থান’ বা গণআন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্ত কোনও মামলাতেই আর অভিযোগ গঠন করা যাবে না। ফলে ওই সময়ের খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো অভিযোগ আইনত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সরকারের দাবি, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সংঘটিত ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে জাতীয় সমঝোতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। জুলাই–আগস্টের অশান্তির সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে হামলা, লুটপাট ও হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়াও পুলিশ সদস্য ও রাজনৈতিক বিরোধীদের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে এই সব মামলাই কার্যত নিষ্পত্তিহীন থেকে যাবে এবং বিচার পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
দ্বৈত নীতির অভিযোগ
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহল ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি বহাল রাখা হয়েছে। এই দ্বৈত নীতিই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সমালোচকদের মতে, একদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা চালু রেখে অন্যদিকে হিংসায় অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেওয়া আইনের শাসনের পরিপন্থী।
ঢাকার এক মানবাধিকার কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এই অধ্যাদেশ কার্যত একটি আইনি ঢাল তৈরি করছে। যারা সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালিয়েছে, তারা জানবে তাদের বিরুদ্ধে কোনও বিচার হবে না। এতে ভবিষ্যতে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়বে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা
অধ্যাদেশ প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ মেলানোর কৌশল, নাকি একটি ‘নির্বাচিত দায়মুক্তি’?
এদিকে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়, তবে সরকারি অধ্যাদেশের মাধ্যমে মামলাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
কূটনীতিকদের মতে, ভারত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষার প্রশ্নে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে নয়াদিল্লি।