বর্তমান বিপর্যয়ই শেখ হাসিনার সময়কে মহিমান্বিত করছে

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশ আবারও এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। ইউনুস গং, বিএনপি, জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং তাদের প্রত্যক্ষ–পরোক্ষ সমর্থকদের সক্রিয়তায় সমাজে বিভাজন ও সংঘাতের বাতাস স্পষ্ট। মাঠে সংঘর্ষ, রাস্তায় অশান্তি, আর ক্ষমতার নোংরা খেলা এগুলো কেবল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সরাসরি হুমকি।
অপরাধ, হিংসা ও অরাজকতার মধ্য দিয়ে অর্থনীতি এবং মানবিক নিরাপত্তা ভেঙে পড়ছে। ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার যখন সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন রাজনৈতিক শ্লোগান এবং প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কখনোই মানুষের নিরাপত্তা বা কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি বরং তাদের রাজনীতি সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাস সেই বাস্তবতার নির্মম দলিল। উগ্রবাদী ও সহিংস রাজনীতির ছোবলে বাংলাদেশের একটি পুরো প্রজন্ম পিছিয়ে পড়েছে। শিক্ষা, মূল্যবোধ, সামাজিক আস্থা সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইতিহাসই বলে, এই ক্ষতি চিরস্থায়ী নয়। এক বা দুই প্রজন্মের প্রভাব থাকলেও রাষ্ট্র যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসে, তবে ক্ষতি পুনরুদ্ধার সম্ভব।

এই প্রেক্ষাপটেই শেখ হাসিনার শাসনামলের অর্জনগুলো নতুন করে দৃশ্যমান হচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মর্যাদা—এসব অর্জন আজকের অরাজক পরিস্থিতিতেই আরও মহিমান্বিত হয়ে উঠছে। বাস্তবতার কঠোর চাপে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং পূর্ববর্তী সাফল্যের গুরুত্ব নতুন করে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আজকের মূল প্রশ্ন আর ক্ষমতার লড়াই নয়—প্রকৃত প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কোন পথে যাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে নাকি স্বাধীনতাবিরোধী অস্থিরতার পথে। এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে কেবল জনগণের সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার ওপর। কারণ ইতিহাস সব সময়ই বলে ক্ষমতার খেলায় নয়, রাষ্ট্র ও জাতির কল্যাণের জন্যই প্রকৃত বিজয় হয়।