পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি এক্সেকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা,

লেখক: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
প্রকাশ: ২২ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতার বসতবাড়ি গভীর রাতে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর । ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আইনের শাসন উপেক্ষা করে সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের মাধবখালী ইউনিয়ন সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কাজী মিজানুর রহমান লাভলু এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও বৃদ্ধা মা বাড়িটিতে বসবাস করতেন। তবে চিকিৎসাজনিত কারণে তারা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ও ফাঁকা ছিল।

মুঠোফোনে কাজী মিজানুর রহমান লাভলু অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, গভীর রাতে প্রথমে এক্সকাভেটর দিয়ে পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে প্রশাসনের কিছু সদস্য ঘটনাস্থলে এলেও অজ্ঞাত একটি প্রভাবশালী মহলের ফোন পাওয়ার পর তারা সেখান থেকে চলে যান। তার ভাষ্য, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী।

লাভলুর স্ত্রী শিল্পী বেগম জানান, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তিনি ঘটনার খবর পান। তার ভাষ্য, গভীর রাতে একদল লোক বাড়িতে গিয়ে প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপর এক্সকাভেটর দিয়ে পুরো বসতঘর ভেঙে ফেলে। পরে ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে পুরো বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ঘটনার সময় লাভলুর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের দৃশ্য প্রচার করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে অভিযুক্ত শাহীন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা জানান ,আদালতের আদেশ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো ব্যক্তির বসতবাড়ি এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা আইনের শাসনের পরিপন্থী। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি ফৌজদারি অপরাধের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শ নির্বিশেষে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই এই ঘটনার গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে।