দিনপত্র ডেস্ক :: সম্প্রতি হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় ৭.৬৫ ক্যালিবারের পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই ক্যালিবারের পিস্তল সাধারণত এনপিবি (Non-Prohibited Bore) শ্রেণির আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে পরিচিত এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অনেকেই লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবহার করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭.৬৫ ক্যালিবার তুলনামূলকভাবে স্বল্পশক্তির হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কাছ থেকে গুলি করা হলেও বুলেট শরীরের ভেতরে আটকে যেতে পারে। অন্যদিকে ৯ মিমি পিস্তল ব্যবহার হলে আঘাতের ধরন ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে সদ্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া-র ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়টিও। জানা গেছে, তাঁর কাছে একটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এনপিবি পিস্তল রয়েছে।
এনপিবি পিস্তল কী?
এনপিবি বা নন-প্রোহিবিটেড বোর হলো এমন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, যা নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বেসামরিক নাগরিকরা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত জেলা প্রশাসনের সুপারিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তির ভিত্তিতে এসব লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
এই শ্রেণির আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পিস্তল, রিভলভার, রাইফেল বা শটগান থাকতে পারে। তবে এসব অস্ত্র ব্যবহারে কঠোর নিয়ম ও বিধিনিষেধ রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।
কারা লাইসেন্স পেতে পারেন?
২০১৬ সালে প্রণীত ‘অগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা’ অনুযায়ী কিছু শ্রেণির ব্যক্তি অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পান। এর মধ্যে রয়েছেন—
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী
মন্ত্রিপর্যায়ের মর্যাদা পাওয়া সরকারি উপদেষ্টা
এই বিধিমালার আওতায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আইনগতভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন বলে জানা যায়।
তদন্তের দাবি
সাম্প্রতিক ঘটনায় তাঁর ব্যাগে পিস্তলের ম্যাগাজিন পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও লাইসেন্স যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পিস্তলটি জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা যাচাই করা যেতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত বক্তব্য প্রকাশ পায়নি।