কুষ্টিয়ায় তথাকথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা: ফ্রন্টলাইনে ছাত্রদল থাকলেও মামলায় নেই নাম,

লেখক: সুরনজিত দেব,
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। ভিডিও ফুটেজে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের সরাসরি হামলায় অংশ নিতে দেখা গেলেও এজাহারে তাদের নাম নেই। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
​মামলার বিবরণ
​নিহত শামিমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় প্রধান আসামীরা হলেন:
​মোহাম্মদ খাজা আহমেদ: কুষ্টিয়া জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি।
​মাওলানা আসাদুজ্জামান: খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির।
​এছাড়া রাজীব ও শিহাব নামে দুইজন স্থানীয় ছুতারসহ ১৮০-২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।
​ভিডিওতে শনাক্ত হওয়া হামলাকারীদের নাম কেন মামলায় নেই—এমন প্রশ্নের জবাবে বাদী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
​ভিডিও ফুটেজ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
​ঘটনার সময়ের প্রায় ১৯ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতা-কর্মী হামলার অগ্রভাগে ছিলেন। অথচ তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
​ফেসবুকে উস্কানি: ঘটনার তিন ঘণ্টা আগে ছাত্রদল নেতা জুবায়ের আহমেদ ফেসবুকে পীর বিরোধী সমাবেশের ডাক দেন। ভিডিওটি জুবায়ের নিজেই রেকর্ড করেছিলেন বলে জানা গেছে।
​ফুটেজে শনাক্ত ব্যক্তিরা: মারুফ (ছাত্রদল সম্পাদক), শাওন, কামাল, রাসেল (যুবদল সদস্য), সুজন, বিপ্লব, মাহিম, মিথুন, জুবায়ের এবং আব্দুল্লাহ সাফি (ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জেলা সম্পাদক)।
​হামলার দৃশ্য: ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা লোহার রড বিতরণ করছে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পীরের ঘরে হামলা চালাচ্ছে। এ সময় লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
​রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
​জামায়াত নেতাদের দাবি: তারা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপির স্থানীয় ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তাদের বাঁচিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াত-শিবির নেতাদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
​বিএনপি নেতাদের বক্তব্য: বিএনপির স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, এটি ছিল বিক্ষুব্ধ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত হামলা, এখানে কোনো দলীয় নির্দেশনা ছিল না।
​পুলিশের বক্তব্য
​কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রধান আসামী খাজা আহমেদ ঘটনার আগে তার সাথে কথা বলেছিলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার কিছু সময় পরেই এই হামলা ঘটে।
​পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন:
​”মামলায় কাকে আসামী করা হবে সেটি সম্পূর্ণ বাদীর বিষয়। এখানে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। তবে তদন্ত চলছে; নির্দোষ কেউ থাকলে নাম বাদ যাবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে নতুন নাম যুক্ত করা হবে।”
​সংক্ষেপে ঘটনার ক্রমধারা: ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটায় এই হামলা ঘটে। এর আগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে জুবায়ের আহমেদ ফেসবুকে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করেছিলেন। স্থানীয়দের মতে, একটি গণ-রোষকে এখন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করা হচ্ছে।