বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা, উলফা প্রশিক্ষক হাসিনুর এখন জামায়াতের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়!

লেখক: ডেনি চাকমা,
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক ::  নবগঠিত বাংলাদেশ আজাদ পার্টি জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে কাজ করবে— যার নেতৃত্বে রয়েছে বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান।

এক বাংলাদেশি লেফটেন্যান্ট কর্নেল, যিনি অনেক আগেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন এবং ভারতের উত্তর-পূর্বের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তিনি ১৯ এপ্রিল ঢাকায় একটি নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি জামায়াত-ই-ইসলামীর বিস্তৃত ১১ দলীয় জোটের অংশ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

হাসিনুর রহমান কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

তবে বিএনপি, এনসিপি বা জামায়াত-ই-ইসলামী—কোনো দলই তাঁকে নিজেদের মধ্যে নিতে ন্যূনতম আগ্রহ দেখায় নি। ১২ ফেব্রুয়ারির (মামুরা আর আমরা) ভাগ বাটোয়ারা নির্বাচনের আগে- হাসিনুর জামায়াত থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের ছেলে ও বিতাড়িত বিগ্রেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আজমির লবিং সত্ত্বেও সেই ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ জোটেনি।

অবশেষে জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ আজাদ পার্টি (বিএপি) নামের একটি নতুন দল যাত্রা শুরু করে, যার নেতৃত্বে আছেন হাসিনুর। ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘উলফা’-র ‘সামরিক’ প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী ষড়য’ন্ত্রে ও জ//ঙ্গি হা*মলার সময় নিজের ‘সশস্ত্র উপস্থিতি’-র কথাও খোলাখুলি দাবি করেছেন। নতুন এই দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে— হাসিনুর রহমানের রাষ্ট্রদ্রোহিতার ঘটনা প্রকাশ পেলে তিনি জামায়াতের ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ খোঁজেন। তবে জামায়াত তাকে প্রকাশ্যে দলে টানতে দ্বিধাবোধ করে।

এনসিপিও তাকে রাজনৈতিক সমর্থনে আগ্রহ দেখায়নি। পরে জামায়াত তাকে পরামর্শ ও সুবিধা দিয়ে একটি ‘সহোদর’ রাজনৈতিক দল গঠন করতে উৎসাহিত করে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, হাসিনুরের এই নতুন দলটি— “ড” আদ্যক্ষরের গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে গঠিত হয়েছে।

নতুন এই দল বিএপি-তে বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান সভাপতি, আর মুখপাত্র হিসেবে রয়েছেন কবির হোসেন, এমদাদ বাবু ও আল আমিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ওলি আহমেদ (এলডিপির একাংশের সভাপতি, যিনি জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত এক কট্টর ভারতবিরোধী রাজনৈতিক জোটের নেতা হিসেবে পরিচিত); জামায়াত নেতা এ এস এম শাহরিয়ার কবির; এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদ প্রধান (শফিকুল আলম প্রধানের ছেলে, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুখ্যাত ‘সাত খু’ন’ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন)।