মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনসহ এখনো পলাতক শতাধিক জঙ্গি: উদ্বেগজনক তথ্য দিল সিটিটিসি,

লেখক: সুমিত রায়,
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক ::  দেশের কারাগারগুলো থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আত্মগোপনে থাকা জঙ্গিদের নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে জেল ভেঙে পালানো জঙ্গিদের মধ্যে ৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিসহ মোট ৭৯ জনকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
​জামিনে মুক্ত হয়ে নিখোঁজ ১১৪ জঙ্গি
​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৬১১ জন তালিকাভুক্ত জঙ্গি রয়েছে। এদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সময়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছে।
​২০২১-২০২৪: ১ হাজার ২৩১ জন জঙ্গি জামিন পায়।
​সেপ্টেম্বর ২০২৪ – জুলাই ২০২৫: নতুন করে আরো ৩৮০ জন জঙ্গি জামিন লাভ করে।
​উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে জামিন পাওয়া এই ৩৮০ জনের মধ্যে ১১৪ জন আদালত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আর কখনোই হাজিরা দিতে আসেননি। তারা বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
​উগ্রবাদী সংগঠনের পরিসংখ্যান
​জামিন পাওয়া ৩৮০ জন জঙ্গির সাংগঠনিক পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে:
​আনসার আল ইসলাম: ৭ জন
​এবিটি: ৪ জন
​জেএমবি: ৬৮ জন
​নব্য-জেএমবি: ৬ জন
​হিযবুত তাহরীর: ৬ জন
​জেএএফএইচএস: ১৫ জন
​অন্যান্য: ২৬৫ জন (নাম উল্লেখহীন সংগঠন)
​এছাড়াও ইমাম মাহমুদের কাফেলা ও হুজির ৪ জন করে সদস্য এই তালিকায় রয়েছেন।
​গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছে ৩৭০ জন
​সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত অন্তত ৩৭০ জন জঙ্গি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অন্যদিকে, গত জুন পর্যন্ত দেশের ১৬টি কারাগারে মাত্র ১৬২ জন জঙ্গি বন্দি অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৯ জন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৬ জন রয়েছেন। বাকি ৩২ জন বিচারাধীন এবং ২৫ জন অন্যান্য মেয়াদে সাজা ভোগ করছেন।
​”আমরা পলাতক জঙ্গিদের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি এবং তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছি।”
— মুনশী শাহাবুদ্দীন, যুগ্ম কমিশনার, সিটিটিসি (ডিএমপি)
​বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মুনশী শাহাবুদ্দীন এই আশ্বাসের কথা জানান। তবে দীর্ঘদিনেও পলাতক ও জামিনপ্রাপ্ত নিখোঁজ জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় জননিরাপত্তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।