দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯-২০২৪ মেয়াদে গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে বিশ্বের জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসে। এটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের নয়, বরং কার্যকর সামাজিক নীতি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছারও একটি সফল উদাহরণ।
শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম বড় অর্জন ছিল সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সম্প্রসারণ। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসব কর্মসূচি দরিদ্র মানুষের ন্যূনতম জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে।
এছাড়া ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য “আশ্রয়ণ প্রকল্প” ও “ঘরে ফেরা” কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে লাখ লাখ পরিবারকে বিনামূল্যে ঘর প্রদান করা হয়। এর ফলে অসহায় মানুষ শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁইই পায়নি, বরং নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পেয়েছে। এই প্রকল্প আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে এবং মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরেছে।
দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণের বিকল্প হিসেবে সুদমুক্ত ঋণ ও আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে অনেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে এবং নিজের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয়। কৃষকদের জন্য সহজশর্তে কৃষিঋণ, সার ও বীজ সহায়তা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়। একই সঙ্গে যুব সমাজের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ও সরকার দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ায়। খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ বিতরণ এবং বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হয়। এতে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।
শেখ হাসিনার সরকারের কল্যাণমুখী নীতি, সুপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দরিদ্রবান্ধব উদ্যোগ বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এই সাফল্য শুধু দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিরই নয়, বরং সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনেরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।