যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর পুরনো সাক্ষাৎকার ঘিরে তোলপাড়: জামায়াত-সিআইএ আঁতাত ও ‘আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ’ নিয়ে নতুন বিতর্ক,

লেখক: আব্দুস সালাম,
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা ও দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর একটি পুরনো সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একাত্তরে তার বয়স, জামায়াতের রোকন (সদস্য) হওয়ার সময়কাল, ইরাক যুদ্ধ প্রসঙ্গে তার অবস্থান এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সাথে দলটির কথিত সংযোগ নিয়ে নেটদুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
​ছাত্রজীবনেই জামায়াতে আকৃষ্ট, একাত্তরে ‘শিশু’ থাকার দাবি নাকচ
​অনেকেই বিভিন্ন সময় দাবি করে থাকেন যে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী বয়সে তরুণ বা শিশু ছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সাক্ষাৎকারে সাঈদীকে নিজের মুখেই তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুর কথা বলতে শোনা যায়।
​সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রজীবনেই তিনি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ১৯৬২ সালে তার পড়াশোনা শেষ হয়। এরপর ১৯৭০-এর দশকে (১৯৭১-১৯৮০ সালের মধ্যে) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের ‘রোকন’ বা পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ লাভ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর দলীয় নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় রোকন হতে হলে তার আগে বেশ কয়েক বছর ‘সাথী’ বা কর্মী হিসেবে সক্রিয় থাকতে হয়। সাঈদীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি পূর্ণ বয়স্ক এবং জামায়াতের রাজনীতির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
​ইরাক যুদ্ধ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ: সংসদে সাঈদীর রহস্যময় ভূমিকা
​সাক্ষাৎকারটিতে জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, মুখে ‘ইসলামী শাসন’ বা ‘আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক’ স্লোগান দিলেও, পর্দার আড়ালে জামায়াত মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে।
​এই দাবির সপক্ষে সাঈদীর সংসদীয় ভূমিকার একটি উদাহরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। ইরাক যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে যখন মার্কিন আগ্রাসনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছিল, তখন সাঈদীকে মোনাজাত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন প্রশাসনকে অসন্তুষ্ট না করার কৌশলী অবস্থান থেকে সাঈদী তার দীর্ঘ মোনাজাতে একবারের জন্যও ‘ইরাক’ শব্দটির উল্লেখ করেননি। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে জামায়াতের ‘আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদী’ তোষণের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
​’রগ কাটা’ রাজনীতি ও সিআইএ সংযোগের অভিযোগ
​এছাড়া দলটির বিরুদ্ধে ওঠা অন্যতম সহিংস অভিযোগ ‘রগ কাটা’র রাজনীতি নিয়েও সাক্ষাৎকারে সাঈদীকে নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরতে দেখা গেছে। তবে তার সেই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। সমালোচকদের মতে, ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্পদ বিদেশিদের কাছে লিজ দেওয়ার যে রাজনীতি জামায়াত করে আসছে, সাঈদীর এই সাক্ষাৎকার তারই এক জীবন্ত দলিল।
​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করছেন, এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে জামায়াতের উগ্র স্লোগান কেবলই লোকদেখানো, যার মূল লক্ষ্য মার্কিন বা পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (সিআইএ) এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা।
​প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর জামায়াতে ইসলামীর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।