বাংলাদেশের ওপর ইউএই’র ভিসা নিষেধাজ্ঞা,ব্যর্থ শাসনের খাঁটি প্রতিফলন

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

নিউক ডেস্ক:: সংযুক্ত আরব আমিরাত হঠাৎ করে পর্যটন, কর্ম ও ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের নাগরিকদের নাম বাদ দিয়েছে আরেকটি আন্তর্জাতিক অপমান আমাদের দেশের জন্য। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল কাগজে নথিভুক্ত নয় এটি আমাদের কূটনৈতিক অবহেলা, প্রশাসনিক অযোগ্যতা এবং রাষ্ট্রীয় অচক্রীয়তার খাঁটি প্রমাণ।

ইউএই’য়ের মতো ঐতিহাসিক কর্ম-গন্তব্য বন্ধ হয়ে গেলে তা আঘাত করে রেমিট্যান্সের ধারায় অর্থনীতি দুঁদে যেতে পারে। রেমিট্যান্স-নির্ভর বাংলাদেশে শ্রমবাজারের সংকোচন মানেই পরিবারের রুটিন আয় কেটে পড়া, শিক্ষাবছর ভাঙা, ক্ষুদ্র ব্যবসার বন্ধ। এ অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখন কেবল তত্ত্ব নয়; তা ঘনঘন বাস্তবে পরিণত হতে শুরু করছে।

কিন্তু মূলত প্রশ্ন হচ্ছে কেন? যুক্তির চামড়া ছাড়া বলা যায় না যে কেবল ‘নিরাপত্তা’ বা ‘প্রশাসনিক’ কারণ নয়; এখানে সরকারের দুর্বল কূটনীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কালো ছোপই বিদেশিরা দেখতে পাচ্ছে। দেশের শীর্ষ স্তরে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও তথাকথিত ‘অযোগ্য’ শাসন বিদেশে আমাদের সুনাম নষ্ট করেছে ফলশ্রুতিতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দরজাগুলো।

এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা একদিনে উঠে যাবে না। এটা একটি সতর্কবার্তা — যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা, মৌলবাদী উত্থান ও আইন-শৃঙ্খলার দুর্বলতা অব্যাহত থাকে, তবে ইউএই’র মতো ভরসাযোগ্য গন্তব্য ছাড়াও আরও দেশ আমাদের নাগরিকদের জন্য দরজা ঝুলিয়ে দিতে পারে। তখন ক্ষতচিহ্ন হবে বহুগুণে: শ্রমবাজার ধ্বংস, রেমিট্যান্স সঙ্কোচন, আর্থিক বিপর্যয় এবং সামাজিক অবক্ষয়।

সরকারকে এখন অবিলম্বে তিনটি কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে—(১) কূটনৈতিক স্তরে তৎপরতা বাড়িয়ে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার চেষ্টা; (২) প্রবাসী কর্মীদের জন্য তাত্ক্ষণিক আর্থিক ও আইনি সহায়তা; (৩) দেশে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ প্রতিরোধে দৃঢ় ও স্বচ্ছ নীতিমালা বাস্তবায়ন। এই পদক্ষেপগুলো না নিলে আজকের অপমান শুধু আরেকটি আলোর খেলা নয় তা কালো দাগের মতো কালের উপর চিরস্থায়ী দাগ হয়ে যাবে।

জনগণকে জাগ্রত হতে হবে, শক্তিশালী ও যোগ্য নেতৃত্ব দাবি করতে হবে। অন্যথায় বিদেশি নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক অবজ্ঞা আমাদের প্রতিটা বাড়িতে, প্রতিটা পরিবারে ধ্বংসের বীজ বপন করে দেবে। এখন সময় নেই অজুহাতে লা-জবাবির; দেশের মর্যাদা ও হাজার হাজার প্রবাসীর ভাগ্য রক্ষার জন্য সৎ, দায়িত্বশীল ও দক্ষ শাসনই একমাত্র সমাধান।