বাংলাদেশে আইনজীবী নায়েম কিবরিয়া হত্যার ঘটনা, হামলা ও বিচারবঞ্চনার শঙ্কা

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন পেশার সমিতি এবং স্বাধীন আইন বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করছি বাংলাদেশের পাবনা জেলা জজ কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী অ্যাডভোকেট নায়েম কিবরিয়া (৩৫) হত্যার ঘটনায়।
নায়েম কিবরিয়া ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ রাতের বশুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি সংগঠিত ভিড়ের হাতে মারধর হয়ে নিহত হন। তিনি ঢাকায় আসেছিলেন হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার জন্য, যেখানে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও রাজনৈতিকভাবে প্রণীত মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
প্রতিষ্ঠিত সূত্র অনুযায়ী, রাত প্রায় ১০টায় তার ব্যক্তিগত গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে অভিযোগকৃত ছোট সংঘর্ষের পর, অজ্ঞাত পরিচয় চরমপন্থী ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে বের করে মারধর করে, গাড়িটি ভাঙচুর করে এবং রাস্তায় গুরুতর অবস্থায় ফেলে চলে যায়। পরে তাকে কুড়িমতোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত ভিড়ের হামলার একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা বাংলাদেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি (ICCPR) অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার লঙ্ঘন করে।
এই ঘটনা একক নয়। জামায়াত, হেফাজত, এনসিপি, চরমোনাই এবং অন্যান্য মৌলবাদী দলগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিড়ের হামলা, হত্যা, ভাঙচুর, হুমকি ও দমননীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে। JusticeMakers Bangladesh in France (JMBF) রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত ১৪ মাসে ৮৪৯ আইনজীবী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এবং ১৯৭ ব্যক্তি গত এক বছরে ভিড়ের হামলায় নিহত হয়েছেন। এপর্যন্ত কোনো অপরাধীকে বিচারকের সামনে তোলা হয়নি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার নীতিগত নীরবতা প্রদর্শন করেছে। এই নীরবতা মৌলবাদী শক্তিকে শক্তিশালী করছে এবং দেশের বিচার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করছে।
আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—এই নৃশংসতা, বিচারবঞ্চনা এবং রাজনৈতিক হুমকির বিরুদ্ধে সতর্ক এবং সক্রিয় হোন। নীরবতা এখন সহযোগিতার সমতুল্য, যা দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছে।