দিনপত্র ডেস্ক :: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কক্সবাজার জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় নয় হাজার শিশু চিকিৎসা নিয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে গত তিন দিনে অন্তত চারটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে একসঙ্গে ৩০ জনের বেশি শিশু ভর্তি রয়েছে। তবে সেখানে আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ আইসোলেশন ওয়ার্ড না থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
সংক্রমণ ক্যাম্পের বাইরে ছড়ানোর আশঙ্কা
প্রথমদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরকে কেন্দ্র করে সংক্রমণের কথা বলা হলেও, এখন কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকাতেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। ফলে নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় এটিকে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর চাপ বাড়লেও সে অনুযায়ী জনবল, ওষুধ বা অবকাঠামোগত সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদারের পরিকল্পনার কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নজরদারি জোরদার, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা জরুরি।
কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
এদিকে, জাতীয় পর্যায়ে এখনো বড় কোনো জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা বা ব্যাপক টিকাদান অভিযানের ঘোষণা না আসায় প্রশ্ন উঠছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ বাড়তে থাকলে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সচেতনতা বাড়ানো এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
কক্সবাজারে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।