কুষ্টিয়ায় দরবারে হামলা ও আগুন, গণপিটুনিতে নিহত ১

লেখক: আবিদুর রহমান
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে গণপিটুনিতে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত দু’জন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কী ঘটেছিল

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত শামীম নিজেকে “কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী”র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং এলাকায় একটি দরবার পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে শনিবার দুপুরের দিকে শতাধিক মানুষ দরবার শরিফটি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারীকে মারধর করা হয়।

উদ্ধার ও চিকিৎসা

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বিকেল তিনটার দিকে আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার পর শামীমের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শামীমের কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে থেকেই এলাকায় অসন্তোষ ছিল। একজন বাসিন্দা বলেন, “ধর্ম নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”

তবে হামলায় কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

পুলিশের বক্তব্য

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি বলেন, “এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।