ড. খলিলুর রহমান: ক্ষমতার অন্তরালের গল্প

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনীতিতে ড. খলিলুর রহমানকে ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক দীর্ঘদিনের। পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে তিনি দেশের ক্ষমতার বলয়ে এক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত নাম হয়ে ওঠেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে।

পারিবারিক সংযোগ ও ২০০১ সালের প্রেক্ষাপট

ড. খলিলুর রহমানের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তিনি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান–এর আত্মীয়সূত্রে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও পরামর্শে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন স্মৃতিকথা ও বইয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়।

সে সময় প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল এবং নীতিগত কিছু সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমালোচনা তৈরি হয়। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের কয়েকটি সিদ্ধান্ত পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলে।

প্রবাস জীবন ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

ড. খলিলুর রহমান দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, তিনি সেখানে ‘রজার রহমান’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস ও কর্মসংস্থানের তথ্যও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা খুব কমই পাওয়া গেছে।

তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অতীতে একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা সামনে আসে, যা নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সমালোচকদের দাবি, ঘটনাটির পর তিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

২০২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক উত্থান

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড. খলিলুর রহমানের নাম আবারও আলোচনায় আসে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তিনি পর্দার আড়ালে থেকে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তারেক রহমান–এর মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা গঠনে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সরকারপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বিবেচনায় এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তবে সমালোচকরা এটিকে রাজনৈতিক পুরস্কার হিসেবে দেখছেন।

সামরিক ও কৌশলগত প্রশ্ন

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সামরিক কাঠামোর ভেতরে প্রভাব বিস্তার এবং নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘিরে কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অভিযোগ তুলেছেন কিছু অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিতর্কের কেন্দ্রেই

সমর্থকদের মতে, ড. খলিলুর রহমান একজন দক্ষ কূটনীতিক ও কৌশলবিদ, যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের ভাষ্য, তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী কিন্তু বিতর্কিত চরিত্র।

সব মিলিয়ে, ড. খলিলুর রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ স্পষ্ট। তার ভূমিকা ইতিহাস কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথের ওপর।