তুরাগ ও মেহেন্দীগঞ্জে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের তীব্র হুঁশিয়ারি,

লেখক: সুমিত রায়,
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ঢাকার তুরাগ এবং বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
​২৬ জুন (শুক্রবার) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
​তুরাগে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজ ৪
​বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২২ জুন ঢাকার তুরাগ থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল থেকে ছাত্রলীগ কর্মী আরিফুল, ৫৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা বিপ্লব এবং ৫৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কর্মী সুমনকে পাশবিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নদী থেকে তাদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
​এছাড়াও তুরাগ থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ মামুন সরকারসহ আরও চারজন নেতাকর্মী আজ পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ছাত্রলীগের দাবি, এটি কোনো সাধারণ সংঘর্ষ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও ঠাণ্ডা মাথার গণহত্যা।
​মেহেন্দীগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মী বাবুকে পিটিয়ে হত্যা
​বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৩ জুন বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মিছিল থেকে ফেরার পথে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ কর্মী মাহবুব বাবুকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
​গণমাধ্যম ও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা
​বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অভিযোগ করেছে, দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এই নৃশংস ঘটনার খবর প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। একই সাথে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো আওয়ামী লীগের নিরীহ কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে।

​ছাত্রলীগের চার দফা দাবি:
​বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:
১. তুরাগ ও মেহেন্দীগঞ্জের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রতিটি ঘাতককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
২. তুরাগ থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি মামুন সরকারসহ নিখোঁজ ৪ জন নেতাকর্মীকে জীবিত উদ্ধার করতে হবে।
৩. নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।
৪. রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলার এই উৎসব অবিলম্বে থামাতে হবে।

​বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, আরিফুল, বিপ্লব, সুমন ও বাবুর হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এবং নিখোঁজ ভাইদের জীবিত উদ্ধার না করা পর্যন্ত তাদের এই সংগ্রাম ও প্রতিবাদ এক মুহূর্তের জন্যও বিরতি নেবে না। সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা ও পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।