দিনপত্র ডেস্ক :: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপির বিজয়ের প্রধান কারণ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মমতা লাগাতার তিনবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের লাগাতার তিনবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দেশের সুসম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক নদী আইনের আওতায় বাংলাদেশের সাথে তিস্তা পানি চুক্তি করা সম্ভব হয়নি শুধু মমতার একগুঁয়ে বিরোধিতার কারণে।
অপরদিকে শেখ হাসিনাকে ইউনুসের ম্যাটিকুলাস ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে দেশছাড়া হতে হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করার পর থেকে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু বক্তৃতা, বিবৃতি ও বিভিন্ন জনসভায়, মাঠে-ময়দানে বলে আসছেন—বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বৈধ প্রধানমন্ত্রী। তিনি ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি বলেই যাচ্ছেন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই ভারত থেকে বাংলাদেশ ফিরে আসবেন—এটাই ভারত সরকার মনে করে।
শুভেন্দুর এ বক্তব্যে কলকাতা সহ আশেপাশের জেলা গুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে যায়। একইসাথে পশ্চিমবঙ্গে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। বিধানসভার নির্বাচনে শুভেন্দুর শেখ হাসিনা কার্ডের ব্যাপক সাড়া পড়ে যায় ভোটারদের মধ্যে। একইভাবে ভোটদানের মাত্রাও গতবারের তুলনায় বহুগুণে বেড়ে যায়।
এছাড়াও শেখ হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির উত্থানে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের হৃদয়ে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করে।
অপরদিকে বাংলাদেশের নির্বাচন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়ে মমতার চোখ ও মুখ বন্ধ থাকতে দেখা যায়। মমতার এ আচরণ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে। তাই বিধানসভার নির্বাচনে মমতার দিক থেকে সাধারণ মানুষ তথা ভোটারগণ মুখ ফিরিয়ে নেন।
এবারের বিধানসভার নির্বাচন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খুব সিরিয়াসলি নিয়েছিলেন। বেশ কয়েকবার পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে উন্নয়নের রোডম্যাপ দিয়েছেন। তিনি মমতার কোনো বিষয় কঠোর সমালোচনা করেননি। নির্বাচনে এটাও একটি ইতিবাচক দিক বলে পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই মনে করেন।