পহেলা বৈশাখে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা: অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান,

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৪ দিন আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বার্তার শুরুতেই তিনি কবিতার পংক্তি উচ্চারণ করেন—
“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।”
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির অন্যতম প্রধান জাতীয় উৎসব, যা নতুনের বার্তা নিয়ে আসে। এদিন মানুষ দুঃখ, ব্যর্থতা ও গ্লানি ভুলে আনন্দে নতুন করে জীবন শুরু করে।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, মোঘল আমলে ফসলি সন হিসেবে বাংলা বর্ষপঞ্জির সূচনা হলেও, সময়ের পরিক্রমায় এটি বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসব এখন বৈশ্বিক বাঙালির মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে বাঙালির সংস্কৃতি দমনে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধা দেওয়া হয়েছিল, এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। স্বাধীনতার পর পহেলা বৈশাখ বাঙালির ঐক্য ও জাগরণের প্রতীকে পরিণত হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, যা ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘বৈশাখী ভাতা’ চালু করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও অসাংবিধানিক সরকারগুলো বিভিন্ন সময়ে এই উৎসবকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, এমনকি মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, বৈশাখী উৎসবের অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবাইকে আবারও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন,
“জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

আঁধার কেটে ভোর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”