দিনপত্র ডেস্ক :: সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ায় হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এমনকি ফাঁসির দাবিও উঠে এসেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এখানে দায় আসলে কার?
ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা: বাস্তবতা বনাম দাবি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ধারণার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে একটি শক্তিশালী অনলাইন রিপোর্টিং সিস্টেম চালু করা হয়।
দেশের সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত অনলাইন রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক ছিল
ভেন্টিলেটরসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির তথ্য এই রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত থাকতো
এই ডেটার ভিত্তিতে হাসপাতালগুলোকে র্যাংকিং ও পুরস্কার প্রদান করা হতো
২০২৫ সালের জুলাই মাসের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজ ক্যাটেগরিতে শীর্ষে ছিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে ২০টি ভেন্টিলেটরই সচল দেখানো হয়েছিল।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে—
যদি দেশের সেরা হাসপাতালেই ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ শিশু মারা যায়, তাহলে অন্যান্য হাসপাতালের অবস্থা কী?
মনিটরিং ব্যবস্থার ঘাটতি কোথায়?
স্বাস্থ্যখাতে শুধু একটি নয়, একাধিক মনিটরিং সিস্টেম বিদ্যমান ছিল:
DHIS2 অনলাইন রিপোর্টিং সিস্টেম
লোকাল হেলথ বুলেটিন
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা
সিভিল সার্জনের মাসিক অনসাইট মনিটরিং
লজিস্টিক্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
রোগীদের অভিযোগের SMS ড্যাশবোর্ড
কিন্তু বাস্তবতা হলো:
সর্বশেষ ব্যবস্থাপনা সভা হয়েছে ২০২৫ সালের আগস্টে
সেখানে ভেন্টিলেটর সংকট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি
এরপর আর কোনো আপডেটও দেখা যায় না
দায়বদ্ধতা: শুধু পরিচালক নাকি আরও অনেকের?
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য।
এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এমপি ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু।
প্রশ্নগুলো স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে:
তিনি কি হাসপাতালের সমস্যাগুলো জানতেন?
তিনি কি ব্যবস্থাপনা সভায় অংশ নিয়েছেন?
তিনি কি সরকারের কাছে কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন?
এছাড়া—
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কি নিয়মিত রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেছেন?
সিভিল সার্জন বা বিভাগীয় কর্মকর্তারা কি মনিটরিং করেছেন?
মূল প্রশ্নগুলো
সিস্টেম আছে, কিন্তু ব্যবহার হচ্ছে কি?
রিপোর্ট আছে, কিন্তু কেউ দেখছে কি?
সমস্যা জানা থাকলেও সমাধান হচ্ছে না কেন?
উপসংহার
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতে যে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল বলে অনেকে মনে করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—
সমস্যা কি সিস্টেমে, নাকি সেই সিস্টেম ব্যবহারের ব্যর্থতায়?