দিনপত্র ডেস্ক :: বিএনপি সরকার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা ও কর্মপরিধি কমানোর চিন্তা করছে। বিএনপি আশঙ্কায় আছে, তাদের ব্যর্থতার সুযোগ নিতে পারে সেনাবাহিনী। বঙ্গবন্ধু সরকার, জিয়া সরকার পতন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকার পতন—সবই সেনাবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর কাজ বৈদেশিক শত্রুর হাত থেকে দেশ রক্ষা করা। যুদ্ধ না থাকায় অলস সেনাবাহিনী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। বিদেশি রাষ্ট্রের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করার অপবাদও উঠেছে। দিন দিন সেনা উচ্চবিলাসী কর্মকর্তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও বিএনপির শীর্ষ মহল মনে করে।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি সরকার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা ও কর্মপরিধি সীমিত করার বিষয়ে চিন্তা করছে, যা রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই ধারণার পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তনের পেছনে সামরিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ বা আলোচনা উঠে এসেছে। তবে এসব ঘটনা ছিল জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের ফল, যেখানে শুধু সেনাবাহিনী নয়, বরং নানা পক্ষের ভূমিকা ছিল। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা একমাত্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা সঠিক নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বেসামরিক কর্তৃত্বের অধীনেই সেনাবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের কর্মপরিধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা বা অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। প্রমাণবিহীন মন্তব্য বা সাধারণীকরণ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বরং প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল আলোচনা, যা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
ইউনুস সরকারের আমলে সেনাবাহিনী ও সেনাপতি নিয়ে জঙ্গিদের বেফাঁস মন্তব্য ও স্লোগান জনমনে বিরক্তি সৃষ্টি করেছে বলেও আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জঙ্গিদের লালন-পালনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। বিগত সময়ে যারা জঙ্গি দমনে জড়িত ছিলেন, তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং জঙ্গি দমনের দায়ে কারাবন্দি করা হয়েছে এমন দাবিও বিভিন্ন মহলে উঠে এসেছে।এসব কারণেই বিএনপি সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সীমিত রাখার পক্ষেই অবস্থান নিতে চায়।