নিউজ ডেস্ক :: বাংলার মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের সম্পর্ক অনন্তকালের। দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে বাঙালির সামগ্রিক জীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মাঝে আনন্দ, ঐক্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা প্রসারিত হয়।
এই আবহেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় ফুটে উঠেছে চিরায়ত বাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাম্যের বার্তা।
বাহাউদ্দিন নাছিম যথার্থভাবেই বলেছেন, দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ। উৎসবের স্পিরিট ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে একত্রিত করে। আর এ কারণেই দুর্গোৎসবের আনন্দ সর্বজনীন হয়ে ওঠে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ড. ইউনূস গং রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর নগ্ন আঘাত হানছে। তাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় দেশজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর, মন্দির ও উপাসনালয়ে আক্রমণ চলছে। দুর্গাপূজা শুরুর আগেই যেভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নেমে এসেছে, তা চরম উদ্বেগজনক। এই চক্রান্ত শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী নয়, এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনারও অবমাননা।
আওয়ামী লীগ সবসময়ই অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারে অটল। বাহাউদ্দিন নাছিমের ভাষায়, খুব শিগগিরই অশুভ শক্তির পতন ঘটবে এবং অন্ধকার ভেদ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ পুনর্জাগরিত হবে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের প্রত্যয় হোক যে কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা হয়ে উঠুক অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক।