বিচারের নামে প্রতিহিংসা খুনিরা সাক্ষী, নিরপরাধরা আসামি

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: আইসিটি আদালতের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া দেশের নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে যারা খুন করেছে, আজ তারাই খুনের স্বাক্ষী।
যিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, আজ তিনিই খুনের মামলার আসামি।
যারা মাঠে প্রাণ দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করেছিলেন, তাদের খুনিরা আজ দায়মুক্তি পেয়েছে।

অপরদিকে, যারা আগুন দিয়ে বিটিভি ভবন, সেতু ভবন ও মেট্রোরেল পুড়িয়ে গর্ব করেছে, তাদের “নির্দোষ” ঘোষিত। এটি বর্তমান আইসিটি মামলার বাস্তব চিত্র—যেখানে বিচার নয়, চলছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নাটক।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আদালত ও প্রশাসন—সবখানেই দেখা যায় ক্ষমতার ছায়া।
সাক্ষ্য ও প্রমাণের তোয়াক্কা না করে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সাজানো মামলার রায় প্রস্তুত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, আদালতে আজ ন্যায় নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত রায়ই ঘোষণা করা হবে যেখানে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

আইনের মৌলিক নীতি “দোষী প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ অপরাধী নয়” আজ খালি শব্দে পরিণত হয়েছে। যারা রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তারা বিচারহীন; আর যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হয়েছে, তারা রাজনৈতিক সুরক্ষায় নিরাপদ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির দোসর হিসেবে অভিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আজ সেই কোর্টের নিয়ন্ত্রক।
ফলে আইনের শাসন নয়, বরং প্রতিহিংসার শাসন চলছে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে।

বিচার যদি সত্যিই অন্ধ হয়, তবে সে কেন নির্দিষ্ট দিকেই তাকিয়ে থাকে? যখন বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন নাগরিকের আস্থা ও দেশের নৈতিক ভিত্তি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আইসিটি মামলার এই বাস্তব চিত্র দেশের আরও বৃহত্তর সমস্যার প্রতিফলন।
গ্রামাঞ্চলে প্রভাবশালী দখলদাররা কৃষকের জমি দখল করছে, শহরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ভূমি ও সম্পত্তি হাতবদল হচ্ছে। আদালত ও প্রশাসনের পক্ষপাত, মামলা বিলম্ব ও বিচারহীনতা—সব মিলিয়ে আইন কার্যকর নয়।

অবৈধ দখলদাররা প্রায়শই প্রশাসনের অংশ বা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত। ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায়ের পরিবর্তে হয়রানির শিকার হয়।
এ যেন এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে আইনের চোখ খোলা, কিন্তু বাস্তবে দেখা নিষিদ্ধ।

একটি জাতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার বিচারব্যবস্থা নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও সাহসী থাকে।
বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বিচার আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছায়াতলে বন্দী।
যেখানে খুনী সাক্ষী, নিরপরাধ আসামি, আর রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়ানোরা আজ বিচারের অভাবে ভোগে—সেখানে আইন কেবল নামমাত্রই রয়ে যায়।

বাংলাদেশের জনগণ চায় ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়।
প্রয়োজন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, বিচারকের স্বাধীনতা ও নাগরিকের আইনি নিরাপত্তা।
ন্যায় তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন বিচার আর প্রতিশোধের পার্থক্য মানুষ বুঝতে পারবে বাস্তবে, কেবল কথায় নয়।