প্রতিহিংসার ছায়ায় আইনের শাসন, বিদেশী নাগরিক দিয়ে ঐক্যমত কমিশনের বিতর্ক

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশে রাজনীতি ও আইনের সংযোগ আজকের পরিস্থিতিতে এক বিতর্কিত বিষয়। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের বক্তব্য অনুযায়ী, তার বৈধ ক্ষমতা পুনঃপ্রাপ্ত হলে ঐক্যমত কমিশনের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হবে। এক কথায়, রাজনৈতিক ক্ষমতার পুনরুদ্ধারকে তারা একটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে জবাবদিহির সুযোগ হিসেবে দেখছে। কিন্তু এই দাবির পেছনে যে রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নগুলো উদ্ভূত হচ্ছে, তা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সংবিধান ও আইনবিধির বাইরে গেলে তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয় যখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে আইনকে প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ক্ষমতা পুনঃপ্রাপ্ত হলে, যদি এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয়, আইনের শাসন প্রতিপালিত হবে না; বরং আদালত ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হচ্ছে—বিচার কোন দৃষ্টিকোণ থেকে হবে? স্বাধীনতা, ন্যায় এবং রাষ্ট্রের স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধের প্রেক্ষাপট থেকে? যে কোনো জাতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা রক্ষা না হলে, জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ভাঙতে শুরু করে।

সাম্প্রতিক আইসিটি মামলাগুলো আমাদের শেখায়, যেখানে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা হারানো হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রের নৈতিক অধিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। যারা রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তারা বিচারহীনতার শিকার হয়েছে; আর যারা প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত, তারা ন্যায়ের হাতছানি থেকে দূরে রয়েছে।