স্বর্ণ গায়েব, আগুন লাগল শাহজালাল এয়ারপোর্টের গুদামে আগুনে লুকানো রহস্য উন্মোচনের দাবি

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: একটি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু তার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য আসে-যায়, সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্য ফাঁকও রাষ্ট্রীয় আস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো গুদামে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড যেন সেই আস্থার মূলভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে—অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগেই বিপুল পরিমাণ মূল্যবান পণ্য, বিশেষ করে স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আমদানি-রপ্তানিযোগ্য বিলাসপণ্য রহস্যজনকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আর ঠিক তার পরপরই আগুনের সূত্রপাত।
দমকল বাহিনী ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও তখন পর্যন্ত কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়, আর হারিয়ে যায় বহু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও পণ্যের রেকর্ড।

এই ঘটনাক্রম থেকেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—এটি কি কেবল একটি দুর্ঘটনা, নাকি সুচিন্তিত ষড়যন্ত্রের অংশ? আগুনের আগে পণ্য স্থানান্তরের ঘটনা কি প্রমাণ গায়েব করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত নয়?

অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় বিমানবন্দরের কিছু কাস্টমস কর্মকর্তা, সিভিল এভিয়েশন কর্মচারী ও স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সের প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকতে পারেন।
অভিযোগ রয়েছে—কার্গো ইয়ার্ডে অবৈধ পণ্য ও অনিয়মের নথি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আগুন লাগানো হয়।
এই প্রথম নয়; এর আগেও বিমানবন্দরের ভেতরে মূল্যবান পণ্য পাচার বা গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু প্রতিবারই তা “তদন্তাধীন” থেকে চাপা পড়ে গেছে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য এখন মূলত আকাশপথে নির্ভরশীল। এই ধরনের ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতিই ডেকে আনে না, বরং বিদেশি ব্যবসায়িক আস্থা ও বিমা সংস্থার চোখে দেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন—যদি এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত না হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কার্গো পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানির ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ হতে পারে। এমনকি IATA নিরাপত্তা সার্টিফিকেশন নিয়েও সংকট দেখা দিতে পারে।

সরকার দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, কিন্তু জনগণের মনে প্রশ্ন—কতগুলো তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে, আর কতটির ফল বাস্তবে দেখা গেছে?
একটি রাষ্ট্রের জনগণ যখন তদন্তের ওপর বিশ্বাস হারায়, তখন প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ধ্বংস হয়। এই আগুনের ঘটনায় যদি সত্যিই প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকে, তবে তা কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র।

শাহজালাল বিমানবন্দরের গুদামে লাগা আগুন কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার জ্বলন্ত প্রতীক।
যদি সত্যিই আগুনের আড়ালে স্বর্ণ ও মূল্যবান পণ্য সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মেলে, তবে সেটি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, বরং জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা।

এই অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ার ভেতরেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশাসনিক গলদ ও দুর্নীতির গন্ধ, যা উন্মোচিত না হলে পুড়তে থাকবে শুধু কার্গো ইয়ার্ড নয় পুড়বে রাষ্ট্রের সততা, জনগণের আস্থা, আর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি।