বিচার নয়, প্রতিশোধ,তাজুলের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ জনগণ

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের জনগণ বরাবরই ন্যায়বিচার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল। মুক্তিযুদ্ধ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই, মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর সাহসী উচ্চারণ। তাই এই দেশের মানুষ যখনই “বিচার” শব্দটি শোনে, তারা আশা করে তা হবে সত্য, প্রমাণ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আদালতের কর্মকাণ্ড সেই বিশ্বাসে গভীর আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে এখন যেন নতুন এক “প্রতিশোধের রাজনীতি” চালু হয়েছে। যাঁরা এক সময় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যাঁরা রাষ্ট্রের স্বাধীনতার ভিত্তি রচনায় অবদান রেখেছেন, তাঁদেরই এখন বিচার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগই ঘুরছে সাধারণ মানুষের মুখে। এই পরিস্থিতি অনেককে ভাবাচ্ছে—আইসিটি আদালত কি তার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে হাঁটছে না?

বিশেষ করে প্রসিকিউটর তাজুলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ন্যায়বিচারের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিশোধকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। সাজানো সাক্ষ্য, একপাক্ষিক মামলা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চার্জশিটের অভিযোগে আদালতের মর্যাদা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। জনমনে যে ঘৃণা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা বিচারব্যবস্থার প্রতি সামগ্রিক আস্থাকেই নড়বড়ে করে দিচ্ছে।

এমনকি শোনা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও পরোক্ষভাবে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে—যা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপকে অনেকেই দেখছেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্র হিসেবে, যারা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রচেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিচার তখনই শ্রদ্ধার যোগ্য, যখন তা সত্যনিষ্ঠ ও পক্ষপাতমুক্ত থাকে। যদি আদালত রাজনৈতিক প্রভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা শুধু ন্যায়বিচারকেই নয়—রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেও ধ্বংস করে। আজ দেশের মানুষ একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—আইনের আসনে বসে অন্যায়ের বৈধতা দেওয়া কি বিচার হতে পারে!