নিউজ ডেস্ক :: দেশে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন দপ্তরে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে গোপনে চলছে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য। ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রায় ২৫ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে—এমন তথ্যের সঙ্গে জুড়ে গেছে ২০০০ কোটি টাকার অবৈধ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ১০টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে যে বিপুল পরিমাণ পদে নিয়োগ চলছে, সেখানে উপদেষ্টা, সচিব থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন—যেমন এনসিপি, বিএনপি, জামাত, গণ অধিকার পরিষদ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, হেফাজত ও চরমোনাই ঘরানার নেতারা—নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর তালিকা তৈরি করছেন। সেই তালিকাগুলো দপ্তরে জমা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ‘সুপারিশপ্রাপ্ত’ প্রার্থীদেরই নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দালাল চক্রের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণও মিলেছে। প্রতিটি পদ বিক্রি হচ্ছে ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকায়—ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিন্ন দামে দরপত্র চলছে। কিছু নিয়োগ বোর্ডে এমনকি লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও আগেভাগে পাচ্ছেন প্রার্থীরা। পরীক্ষার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে গোপনে প্রশ্ন ফাঁস করে দেওয়া হয় নির্বাচিত তালিকার সদস্যদের কাছে, যাতে তারা প্রশ্ন দেখে প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘নিখুঁত পারফরম্যান্স’ দেখাতে পারেন।
প্রশ্ন ফাঁস, কমিশন ভাগাভাগি ও রাজনৈতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে নিয়োগ ব্যবস্থাকে পরিণত করা হয়েছে এক প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির যন্ত্রে। চাকরিপ্রত্যাশীরা যেখানে বছরের পর বছর পরিশ্রম করেও নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন, সেখানে প্রভাবশালী সুপারিশ আর টাকার জোরে চাকরি পাচ্ছেন অনেকে।
প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন হস্তক্ষেপ আগে কখনো দেখা যায়নি। প্রতিটি পদে এখন দাম নির্ধারিত, যেন বাজারে পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বাণিজ্য কেবল নিয়োগে নয়, রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার, সুশাসন ও দক্ষ জনবল গঠনের ভিত্তিকেও ধ্বংস করছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই যদি এই ‘চাকরি বানিজ্য’ রোধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে প্রশাসন আরও গভীর দুর্নীতির জালে আটকে পড়বে—যেখান থেকে উত্তরণ প্রায় অসম্ভব হবে।