হাদীর নামে অপশক্তির উত্থান ঘটেছে—সহিংসতার ভিডিও ফুটেজই প্রমাণ, ন্যায়বিচারের বদলে ধ্বংস চায়

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যু জাতির জন্য নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। যাঁরা তাঁকে সত্যিই ভালোবাসতেন, তাঁকে আদর্শ ও সংগ্রামের প্রতীক মনে করতেন, তাঁদের প্রথম কর্তব্য ছিল তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা, শোককে সংযমে ধারণ করা এবং দেশবাসীকে দোয়ার আহ্বান জানানো। কোনো মৃত্যুই—তা যত হৃদয়বিদারক হোক—সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের বৈধতা দিতে পারে না।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধের নামে যেভাবে আগুন জ্বালানো হয়েছে, যেভাবে তাণ্ডব লীলা চালানো হয়েছে—তার ভিডিও ফুটেজই প্রমাণ করে, এখানে শোক নয়, ন্যায়বিচারের দাবি নয়, বরং ধ্বংসের উদ্দেশ্যই মুখ্য। যারা এই আগুনে পুড়েছে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—তারা কেউ হাদীর খুনি নয়। তারা কেউ হাদীর হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়নি। তবুও কেন তাদের শাস্তি পেতে হবে?

ইন্ডিয়ান হাই কমিশন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, কাওরান বাজারের ক্ষুদ্র দোকানদার, ছায়ানট কিংবা ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবন—এই প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাগুলোর সঙ্গে হাদীর হত্যার কোনো সম্পর্ক নেই। চিকিৎসার সঙ্গেও তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ হাদীর মৃত্যুকে অজুহাত বানিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে আগুন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এটা কি আবেগের বিস্ফোরণ, নাকি সুপরিকল্পিতভাবে অপশক্তির উত্থান?

হাদীকে জীবিত অবস্থায় নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতেও রাষ্ট্র চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু এই ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়া উচিত ছিল দায়িত্বশীল রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে—যমুনা ভবন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসা বা অফিস, কিংবা ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় ঘিরে। দায়িত্বহীন তাণ্ডব কখনো ন্যায়বিচারের পথ হতে পারে না।

হাদী উন্নত চিকিৎসা শেষে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যারা সহিংসতার শিকার হয়েছে—তাদের অপরাধ কী? রাষ্ট্রের ব্যর্থতার মূল্য কেন সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে?

আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যারা এই সহিংসতা চালাচ্ছে, তারা হাদীর শুভাকাঙ্ক্ষী নয়। তারা ঘাতকের বিচার চায় না। তারা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধ্বংস করতে চায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিতে চায় এবং একটি সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এরা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিরই ধারাবাহিক রূপ।

আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—এই অপশক্তিকে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর নীরবতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা তাদের সাহস বাড়াচ্ছে। তারা জানে, পুলিশ তাদের ধরবে না, বিচার হবে না।

এখন আর অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। ভিডিও ফুটেজ ও দৃশ্যমান প্রমাণের ভিত্তিতে দেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি সহিংসতাকারীকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এই ধ্বংসযজ্ঞের দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারবে না—এবং সেই দায় নিয়ে ড. ইউনুসের পদত্যাগ অনিবার্য হয়ে উঠবে।

হাদীর স্মৃতি সম্মান পাবে ধ্বংসে নয়, ন্যায়বিচারে।