ভারতের সহকারী হাইকমিশন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ:

লেখক: বিলাস দেব,
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের সহকারী হাইকমিশন অফিস, ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষদের বাড়িঘর, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদীচীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাষ্ট্রীয় মদদে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি কর্তৃক পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসী হামলা এবং দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (২১ ডিসেম্বর, রবিবার) এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

লিখিত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে যে,
“মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর সহকারী হাইকমিশন অফিস, ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়, ছায়ানট, উদীচীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় মদদে স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী অপশক্তি কর্তৃক পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে এক হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। রাষ্ট্রীয় মদদে সংঘটিত এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা দ্বারা স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশে আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রের ন্যূনতম বৈশিষ্ট্য অবশিষ্ট নেই। মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উন্মত্ততার পঙ্কিলতায় ডুবে গেছে সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র। সরকার নামক কমিটি তার সক্রিয় পৃষ্ঠপোষক। রাষ্ট্রীয় মদদে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তি কর্তৃক এধরণের বর্বর হামলা ও হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বহুত্ববাদিতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর চরম ও সরাসরি আঘাত। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সন্ত্রাসীবাদীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অন্য দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও কূটনৈতিক মিশনকে লক্ষ্য করে শালীনতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সর্বোপরি কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—এই অপশক্তি, উগ্র-সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিনষ্ট করতে, ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করতে এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করতে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দিনাজপুরে খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হবিগঞ্জে সাংবাদিক সুশান্ত দাস গুপ্তের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, যশোরে সনাতনী ধর্মের নিরীহ রিক্সাচালকের ওপর মব সন্ত্রাস, ময়মনসিংহে একজন সনাতনী হিন্দু যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাসমূহ প্রমাণ করে যে, এসব উগ্রবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীরা মানবতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের ঘোরতর শত্রু। অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ইউনুস সরকারের মদদে সংঘটিত এসব সন্ত্রাসী হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসী, উসকানিদাতা ও মদদদাতাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। যদিও এই উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর প্রতি বর্তমান দখলদার সরকারের নিস্পৃহতা ও নিস্ক্রিয় মনোভাব লক্ষণীয়। তাই এসব উগ্র-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, জঙ্গি মনোভাবাপন্ন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিটি স্তরে গণসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জামাত-শিবির ও এনসিপির কতিপয় সন্ত্রাসীদের লাগাতার উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশে সারাদেশে এসব সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র এখনও পর্যন্ত হামলাকারী ও উসকানিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।কূটনৈতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে বিজয়ের মাসে পরিকল্পিত ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের সহকারী হাইকমিশন অফিস ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে হামলাকারী, উসকানিদাতা ও নির্দেশদাতা প্রত্যেককে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। উসকানিদাতা ও হামলাকারী প্রত্যেক মৌলবাদী জঙ্গি সন্ত্রাসীরা দেশ ও জাতির শত্রু। এরা বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের এজেণ্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির উসকানির কারণে বাংলাদেশ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কোন শ্রেণীর পেশার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের দাবি, অবিলম্বে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনুসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করুন। ইউনুসের পদত্যাগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। এব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণ এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করছে। আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি—সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আপসহীন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তিকে প্রতিহত করবে এবং বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিনির্মাণ করবে। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির পরাজয় অবধারিত। বিজয় আমাদের হবেই। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”