দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশ আজ এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে নাগরিকের স্বপ্ন আর যোগ্যতা নয়—ডলারের অঙ্কই শেষ কথা। আমেরিকার ভিসার জন্য বাংলাদেশিদের ওপর ১৫ হাজার ডলারের জামানতের শর্ত কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সরাসরি প্রমাণ করে যে ইউনুসের শাসনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থাহীন ও সন্দেহভাজন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
এই অবস্থা হঠাৎ তৈরি হয়নি। এটি ব্যর্থ নেতৃত্ব, দুর্বল কূটনীতি এবং অবৈধ ক্ষমতার কাঠামোর ধারাবাহিক ফল। বর্তমান সরকার প্রধান ড. ইউনুস একসময় বলেছিলেন—“সমগ্র বিশ্ব আমাদের কাছে আসবে, আমরা কোথাও যাবো না।” আজ সেই বক্তব্য রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নির্মম উপহাস। বিশ্ব আমাদের কাছে আসেনি, বরং ইউনুসের শাসনে বাংলাদেশিদের জন্য বিশ্বটাই ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কূটনীতি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। আর সেই মেরুদণ্ড ভেঙে পড়লে রাষ্ট্র কেবল নতজানু হয় না—আন্তর্জাতিকভাবে অপমানিত হয়। ইউনুসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সেই অপমানই বহন করছে। অবৈধ ক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সরকারই বিশ্ব রাজনীতিতে সম্মান ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না। তার ফল হিসেবে আসে ভিসা কড়াকড়ি, বাড়তি শর্ত, নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক নিঃসঙ্গতা।
১৫ হাজার ডলারের জামানত মানে কী—তা বোঝার জন্য কোনো কূটনৈতিক বিশ্লেষণ দরকার নেই।
এর মানে, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বাংলাদেশিদের জন্য আমেরিকার দরজা কার্যত বন্ধ।
এর মানে, মেধা ও যোগ্যতার জায়গায় অর্থই এখন মূল মানদণ্ড।
এর মানে, রাষ্ট্র নিজেই তার নাগরিকদের শ্রেণিভিত্তিকভাবে বঞ্চিত করছে।
এই সংকটের দায় কোনো ছাত্রের নয়, কোনো রোগীর নয়, কোনো পরিশ্রমী কর্মজীবীর নয়। এই দায় সরাসরি ইউনুস সরকারের ব্যর্থ কূটনীতির। রাষ্ট্র যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়, তখন অন্য রাষ্ট্রগুলো শর্ত চাপিয়ে দেয়। আর সেই শর্তের ভার বইতে হয় সাধারণ মানুষকে।
ড. ইউনুসের নেতৃত্ব বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে—এটি আর রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি বাস্তব অভিজ্ঞতা। ধ্বংস মানে শুধু অর্থনৈতিক পতন নয়; ধ্বংস মানে সম্ভাবনার মৃত্যু, ভবিষ্যতের সংকোচন এবং জাতির আত্মমর্যাদার অবক্ষয়। আজ যদি একজন নাগরিককে বলা হয়—“তুমি আগে প্রমাণ করো তুমি ধনী, তারপর তুমি স্বপ্ন দেখতে পারো”—তবে সেটি কোনো স্বাধীন ও মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রের চিত্র নয়।
যে নেতৃত্ব নিজের জনগণের জন্য বিশ্বকে উন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়, বরং বিশ্বকে আরও দূরে ঠেলে দেয়—সে নেতৃত্ব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। আজ বাংলাদেশ প্রশ্নের মুখে। আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে একটি ব্যর্থ, অবৈধ ও জনবিচ্ছিন্ন শাসনব্যবস্থা।
ইতিহাস ক্ষমা করে না।
জনগণও না।