বাংলাদেশ সেনা চীন-পাকিস্তান নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, আসছে নতুন প্যারা কমান্ডো ইউনিট

লেখক: আলী মাহবুব
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক কৌশলে বড় সংস্কারের পথে এগোচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও রাশিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ নির্ভরতা থাকলেও, এখন থেকে এটি কমানো হচ্ছে। সেনা কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ পাঠানো হবে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে, পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী।
সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে সেনাসদর ও ফরমেশন কমান্ডাররা এই বিষয়ে নীতিগত আলোচনা করেছেন। সম্মেলনের সিদ্ধান্তের কিছু অংশ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
একই সঙ্গে, সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক ও বিশেষ অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং আরও দুটি প্যারা কমান্ডো ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব ইউনিট অস্থায়ী নয় বরং স্থায়ী কাঠামোর আওতায় গঠিত হবে।
এ পর্যন্ত, বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তাদের অনেককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারত ও রাশিয়ার সামরিক একাডেমিতে প্রশিক্ষণ পাঠানো হতো। নতুন নীতিতে প্রতিটি প্রশিক্ষণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, কৌশলগত গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনা করে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
সম্মেলনে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের মতো দেশগুলোতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও আলোচিত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সেনাবাহিনীর কৌশলগত ভারসাম্য পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
নতুন স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট গঠনের প্রস্তাব প্রথমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা পর্যায়ে উত্থাপিত হয় এবং পরবর্তী মাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সম্মেলনে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ জনবল কাঠামো নির্ধারণ এবং কিছু অস্থায়ী ইউনিটকে স্থায়ী করার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হয়েছে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান এবং সেনাসদরের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ফরমেশন কমান্ডাররা তাদের অধীনস্থ এলাকার চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সম্মেলনের পর সেনাপ্রধান আজ (২৭ জানুয়ারি) রংপুরের ৬৬ পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করবেন, যেখানে সঙ্গে থাকবেন ঊর্ধ্বতন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।
এই কৌশলগত সংস্কার ও নতুন ইউনিট গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সামরিক সক্ষমতা, আত্মনির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ বিকল্পের দিক থেকে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।